সংসদ গ্যালারি ও জাতীয় সচিবালয় ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার পর প্রতিবছরের চেনা রাজনৈতিক রেওয়াজ ভেঙে এক নজিরবিহীন ও সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে তাঁর সরাসরি ও কঠোর নির্দেশনায় এবারের প্রথাগত ও ঐতিহ্যবাহী বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ (Post-Budget Gala Dinner) সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ মহলের এই চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’ (বাসস) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের অপ্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এবার বাজেট-পরবর্তী কোনো রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়নি।
উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রতিবছর জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের দিন রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে এই রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। জাঁকজমকপূর্ণ এই সরকারি অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য, সংসদ সদস্য (এমপি), সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সশরীরে অংশ নিতেন। তবে এবার সেই বিপুল খরচের উৎসব থেকে সরে আসলো নতুন সরকার।
বাজেট পাসের বিরল কর্মব্যস্ততার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন খাতের এক তুলনামূলক ভীতিপ্রদ অপচয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন:
"বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বা খাবারের খাতেই প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা অবলীলায় ব্যয় করা হতো। এর বাইরে বিবিধ আপ্যায়নে আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ উড়ানো হয়েছে। সরকারি অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই চা-নাস্তা ও খাবার খাতেই রাষ্ট্রীয় ব্যয় হয়েছিল রেকর্ড ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।"
তিনি আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন’ (Bangladesh Parjatan Corporation) মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই রাজকীয় খাবারগুলো সরবরাহ করত। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আগের সরকারের সময়ের সেই বিপুল অঙ্কের খাবারের বিল এখনও বকেয়া (Unpaid) পড়ে রয়েছে; যা বর্তমান নতুন সরকারকে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পর্যায়ক্রমে এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, "জননেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম নির্দেশই ছিল অপচয় রোধ। তাঁর কড়া নজরদারিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ভাতা ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ টাকা।"
এ ছাড়া পবিত্র দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (Jamuna) আয়োজিত বড় কূটনৈতিক ও সরকারি অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়ন বাবদ সব মিলিয়ে অত্যন্ত সাশ্রয়ীভাবে মাত্র ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই দীর্ঘ ও জটিল বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে অত্যন্ত কর্মব্যস্ত ও ক্লান্তিকর সময় কাটিয়েছেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় সংসদে আসেন। তিনি সকাল থেকে শুরু করে অধিবেশন কক্ষের ফ্রন্ট বেঞ্চে সম্পূর্ণ উপস্থিত ছিলেন। বাজেটের বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের দীর্ঘ আলোচনা, কণ্ঠভোটে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও পাস করার কার্যক্রমে তিনি সরাসরি অংশ নেন।"
সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের বিরতির সময়ও প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে তাঁর জন্য নির্ধারিত কার্যালয়ে বিশ্রাম না নিয়ে নিরলসভাবে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং রাষ্ট্রের জরুরি বিভিন্ন সরকারি ফাইলে সই ও অনুমোদন নিশ্চিত করেন।
নৈশভোজ বাতিল: বাজেট পাসের পর সংসদ ভবনের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজস্ব সাশ্রয়: ডিনার বাতিলের এই একটিমাত্র সাশ্রয়ী সিদ্ধান্তে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা বেঁচে গেছে।
বিগত আমলের অপচয়: আগের সরকারের সময়ে কেবল পিএমও (PMO) আপ্যায়নেই খরচ হতো বছরে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা।
বর্তমান চিত্র: তারেক রহমানের কড়া সাশ্রয়ী নীতিতে চলতি জুন মাসের মোট আপ্যায়ন বিল মাত্র ১১ লাখ ৬৯ টাকা।
বকেয়া সংকট: বিগত সরকারের আমলের পর্যটন করপোরেশনের বিপুল বকেয়া খাবারের বিল এখন শোধ করছে সরকার।
স্টাফ রিপোর্টার | জাতীয় রাজনীতি ও সংসদীয় সচিবালয় বিভাগ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয়ের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বকেয়া সরকারি বিলের সর্বশেষ আপডেট, জাতীয় সংসদে আজ পাস হওয়া ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০blank৬’ এর গেজেট এবং দেশের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |