আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (PA) নিয়ন্ত্রিত অধিকৃত পশ্চিম তীরের (West Bank) সম্পূর্ণ সার্বভৌম ‘এ’ (A) অঞ্চলের অন্তত ১০০টি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান একযোগে সামরিক কায়দায় দখলের এক ভয়ঙ্কর মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে কট্টরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলের প্রভাবশালী হিব্রু দৈনিক ‘ইসরাইল হাইয়োম’ (Israel Hayom)-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক তথ্য ফাঁসের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি উগ্রপন্থী সংগঠন ‘সেটলার ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘হাভাত (ফার্মস) ফোরাম’ যৌথভাবে এই গোপন ব্লু-প্রিন্ট বা পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে। এর মূল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বর্তমান মানচিত্রকে সম্পূর্ণ ও মৌলিকভাবে বদলে দেওয়া।
ফাঁস হওয়া ওই নথির প্রস্তাবে একটি নির্দিষ্ট দিনকে ‘বাস্তবায়নের দিন’ (Day of Implementation) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেই নির্ধারিত দিনে পশ্চিম তীরের প্রায় ১০০টি কৌশলগত স্থানে সশস্ত্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারী এবং বিশেষ ইসরাইলি বাহিনী মোতায়েন করে চারপাশ অবরুদ্ধ করার একটি নিখুঁত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই স্থানগুলো ১৯৯৫ সালের ঐতিহাসিক ‘অসলো-২’ (Oslo II Accord) আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘এ’ জোনের অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী, এই অঞ্চলটির প্রশাসনিক পরিচালনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এককভাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (PA) হাতে ন্যাস্ত রয়েছে।
ইসরাইল হাইয়োম পত্রিকার মতে, এই আগ্রাসী পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যে ইসরাইলি সরকারের প্রভাবশালী ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নীতিনির্ধারক ব্যক্তিদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই দখলদারিত্বের তালিকায় ফিলিস্তিনের প্রধান ও ঐতিহাসিক শহরগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া: প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (PLO) অধিভুক্ত ‘অ্যান্টি-ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিটি’-র সভাপতি মুয়াইয়াদ শাবান এই চরমপন্থী প্রস্তাবটিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে স্থায়ীভাবে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত (Annexation) করার ক্ষেত্রে তেল আবিবের একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মুয়াইয়াদ শাবান দাবি করেন, এটি তথাকথিত অবৈধ বসতি স্থাপনকারী কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর স্বাধীন বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থি ও বর্ণবাদী ইসরাইলি সরকারের নিয়মিত অনুসরণ করা বৃহত্তর ফিলিস্তিন উচ্ছেদ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’ (Geo News) তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী (IDF) আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও নগরে প্রকাশ্য সামরিক অভিযান চালায়। এসব অভিযানে নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের গ্রেফতার, মাঠপর্যায়ে অমানবিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং গভীর রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও তল্লাশি চালানো নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে (গাজা যুদ্ধ শুরুর পর) কেবল পশ্চিম তীরেই ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র দখলদারদের বর্বর হামলায় ১ হাজার ১৭৩ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৬৬৬ জন গুরুতর আহত এবং প্রায় ২৩ হাজার নিরীহ মানুষকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে ইসরাইলের অন্ধকার কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
মূল ষড়যন্ত্র: পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত ‘এ’ জোনের ১০০টি স্থান দখলের ছক।
মূল পরিকল্পনাকারী: ইসরাইলের উগ্রপন্থী সেটলার ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন ও হাভাত ফোরাম।
চুক্তি লঙ্ঘন: ১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিনের মূল শহরগুলোতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি।
পিএলও-র হুঁশিয়ারি: এটি নেতানিয়াহু সরকারের পশ্চিম তীর স্থায়ীভাবে গিলে খাওয়ার বিপজ্জনক ব্লু-প্রিন্ট।
রক্তাক্ত পরিসংখ্যান (২০২৩-২০২৬): পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১,১৭৩, আহত ১২,৬৬৬ এবং গ্রেফতার ২৩,০০০ ফিলিস্তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিভাগ
রামাল্লাহ ও নাবলুসসহ পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোর লাইভ সিকিউরিটি আপডেট, ইসরাইলি ক্যাবিনেটের নতুন বসতি স্থাপন নীতি, ওআইসি (OIC) ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্য ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |