আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় ও সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তবে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে সবচেয়ে বড় কৌশলগত ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে দমনের নামে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও ‘অপরিহার্য’ অংশীদার হিসেবে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেছিলেন নেতানিয়াহু, এই চুক্তির মাধ্যমে তাঁর সেই দাপুটে ভাবমূর্তি ও একক আধিপত্যের দেয়াল পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তিই ছিল একটি চতুর ও সাহসী দাবি—তিনি একাই পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের পেছনে পুরোপুরি খাটাতে। বিশেষ করে মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির (Republican Party) নীতিনির্ধারকদের সাথে এক অবিশ্বাস্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি বছরের পর বছর ধরে প্রচার করে এসেছেন যে, তেহরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ক্রমাগত ও কঠোর সামরিক চাপ বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।
মার্কিন কূটনৈতিক মহলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকান হুইস্পারার’ (American Whisperer) বা ‘ওয়াশিংটনের কানপড়া দাতা’ বলে অভিহিত করা হতো। এর কারণ ছিল মার্কিন হোয়াইট হাউস কিংবা ক্যাপিটল হিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি ও জাদুকরী প্রভাব ফেলার এক অনন্য ক্ষমতা ছিল তাঁর। অন্য কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাঁর মতো এত বেশিবার মার্কিন কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে যৌথ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পাননি, কিংবা আমেরিকার ঘরোয়া রাজনীতিতে এত দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বলয় তৈরি করতে পারেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর এই অবস্থানকে এতদিন অজেয় ও অলঙ্ঘনীয় মনে করা হতো।
তবে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সর্বাত্মক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে হওয়া সাম্প্রতিক ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ বা সমঝোতা স্মারক (MoU) সেই পুরোনো ধারণাকে সম্পূর্ণ উলটে দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই বদলে গেছে যে, নেতানিয়াহু এখন আর ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নির্ধারণ বা প্রভাবিত করতে পারছেন না; বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া কঠোর সিদ্ধান্তই তাঁকে এক প্রকার বাধ্য হয়ে মুখ বুজে মেনে নিতে হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ দ্রুত শেষ করে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চুক্তির পথে হাঁটছেন, যেখানে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী আপত্তিগুলোকে এখন মার্কিন প্রশাসনের কাছে অগ্রগতির পথে প্রধান ‘বাধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি প্রতিনিধিদের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত করা এবং তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল অগ্রাধিকার।
সাবেক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অভিজ্ঞ কূটনীতিক ডেনিস রস (Dennis Ross) পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে নিজের দেশের ভেতরেও এক অভূতপূর্ব কঠিন রাজনৈতিক দেওয়ালের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো মূল্যে এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি দেখতে চায়, অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী রাজনৈতিক জোট ও সমর্থকরা—বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানের ইস্যুতে—কোনো ধরনের ছাড় বা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে একেবারেই নারাজ।"
এর ফলে নেতানিয়াহু এখন এমন এক মারাত্মক উভয়সংকটে পড়েছেন, যেখানে দক্ষিণ লেবানন বা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে দেশের ভেতরে তাঁর ডানপন্থী সরকার ভেঙে পড়ার ও বড় রাজনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। আবার অন্যথায়, নিজের জেদ বজায় রেখে সামরিক অভিযান বাড়াতে গেলে খোদ ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সরাসরি ও প্রকাশ্য সংঘাতের ভয়ঙ্কর আশঙ্কা তৈরি হবে, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।
রাজনৈতিক পরিচয় সংকট: আমেরিকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে ‘আমেরিকান হুইস্পারার’ খ্যাত নেতানিয়াহুর একক দাপটের অবসান।
ট্রাম্পের নীতি: ইসরায়েলের কট্টর আপত্তি উপেক্ষা করেই ইরানের সাথে ১৪ দফার রোডম্যাপ ও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর।
মূল দ্বন্দ্বের জায়গা: ইরান ও লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্প যখন শান্তি চান, নেতানিয়াহুর ঘরোয়া সমর্থকরা তখন আরও সামরিক আগ্রাসন চান।
বিশ্লেষকদের মত: এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ‘ক্যাজুয়ালটি’ বা ভুক্তভোগী স্বয়ং নেতানিয়াহু এবং তাঁর দীর্ঘদিনের ইরান-দমন রণকৌশল।
বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের লাইভ আপডেট, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে তেল আবিবের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রিসভার বিতর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত ও নিখুঁত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |