ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে। কারণ, এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ।
ইরান ইতিপূর্বে বহুবার হুমকি দিয়েছে, যদি তাদের ওপর সামরিক বা অর্থনৈতিক আঘাত আসে, তাহলে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
এটি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করে, যা আবার আরব সাগরে মিশেছে।
দৈনিক পরিবাহিত হয় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও গ্যাস, যা চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মত দেশগুলোর জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
প্রণালীর প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, যা এটিকে ভূরাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর অনেক জাহাজ মালিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
কেউ কেউ জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে, আবার কেউ নতুন রুট বেছে নিচ্ছে।
ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ বেড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, তেলবাহী ট্যাংকারের ভাড়া ২০%–৪০% পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
ইআইএ অনুযায়ী:
হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানির ৮২% গন্তব্য এশিয়া।
চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া মিলে আমদানির ৭০% এই প্রণালীতে নির্ভরশীল।
এশিয়ার বাজারে জ্বালানি ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান এই প্রণালী বন্ধ করলে নিজের তেল রপ্তানিও ব্যাহত হবে।
এটি হবে একপ্রকার আত্মঘাতী কৌশল, কারণ তাদের প্রধান গ্রাহক চীন ক্ষুব্ধ হতে পারে।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটতে পারে।
ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন: দৈনিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহণ সক্ষমতা।
ফুজাইরাহ পাইপলাইন: স্থলভাগের তেলক্ষেত্র থেকে সরাসরি ওমান উপসাগরে।
তবে, এই বিকল্প রুটগুলো হরমুজ প্রণালীর মোট পরিবহণ ক্ষমতার তুলনায় অনেক সীমিত। ইআইএ হিসেব বলছে, মাত্র ২.৬ মিলিয়ন ব্যারেল বিকল্প পথে পাঠানো সম্ভব।
সংঘাত দীর্ঘ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হবে।
এশিয়ার অর্থনীতি ও গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চোকপয়েন্ট হুমকির মুখে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |