২০২৫ সালের ২৫ জুন, হিজরি ১৪৪৭ সালের প্রথম দিনে, সৌদি আরবের মক্কা শরিফে পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়া) পরিবর্তন করা হয়েছে। এশার নামাজের পর অনুষ্ঠিত এই পবিত্র আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন সৌদি রাজপরিবারের প্রতিনিধি ও মসজিদুল হারামের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এই গিলাফ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কেবল একটি ধর্মীয় রীতি পালিত হয়নি, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক ও সংস্কৃতিক ধারারও অংশ—যা মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২৫ জুন রাতে মসজিদুল হারামে গিলাফ পরিবর্তনের সময় বাদশাহ সালমানের পক্ষে গিলাফ হস্তান্তর করেন প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। তিনি এটি মসজিদুল হারামের সিনিয়র কিপার আবদুল মালিক বিন তাহা আল-শাইবির কাছে তুলে দেন। নতুন গিলাফটি তৈরি করা হয়েছে কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হলি কাবা কিসওয়া–তে।
এবারের গিলাফেও ব্যবহার করা হয়েছে কালো সিল্কের কাপড়, স্বর্ণ ও রুপার সুতা দিয়ে কারুকাজ করা হয়েছে আয়াতুল কুরসি, কলেমা ও বিভিন্ন দোয়া।
উচ্চতা: ১৪ মিটার
বেল্টের প্রস্থ: ৯৫ সেন্টিমিটার, দৈর্ঘ্য: ৪৭ মিটার
১,০০০ কেজি সিল্ক, ১২০ কেজি স্বর্ণ ও ১০০ কেজি রুপা ব্যবহৃত
মোট ১৬টি টুকরো কাপড়, ৫ ভাগে সেলাই করে গিলাফ তৈরি
ইসলামপূর্ব যুগেও কাবাঘরে গিলাফ পরানো হতো। তখন বিভিন্ন আরব গোত্র নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাপড় দান করত।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের প্রচার শুরু করার পর কাবার গিলাফ নতুন আঙ্গিকে পরিবর্তনের রীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে খলিফা উমর (রা.) ও উসমান (রা.) এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি হিজরি নববর্ষের প্রথম দিনেই গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। এটি ১৯২৭ সাল থেকে সৌদি শাসকদের অধীনে নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে।
মুসলিমদের কাছে কাবা শরিফ হচ্ছে ইসলামের পবিত্রতম স্থান। এটি কেবল কিবলা নয়, বরং ইসলামী ঐক্যের প্রতীক। তাই এর গিলাফ পরিবর্তন একটি আধ্যাত্মিক পুনর্নবীকরণের প্রতীক।
গিলাফ প্রস্তুত ও পরিবর্তন সৌদি শাসকদের ধর্মীয় দায়িত্ব এবং নেতৃত্বের প্রমাণও বহন করে। এটি সৌদি আরবের ধর্মীয় হস্তক্ষেপের বৈধতা ও নেতৃত্ব জোরদার করে।
কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স একটি উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান। এখানে শতাধিক কারিগর ও ইসলামিক শিল্পী মিলে প্রতি বছর এই গিলাফ তৈরি করেন, যা বিশ্বমানের কারুশিল্পের উদাহরণ।
প্রাকৃতিক সিল্ক, স্বর্ণ ও রুপা দিয়ে তৈরি হওয়ায় গিলাফের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের প্রশ্ন উঠতে পারে।
আগের গিলাফ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই গিলাফগুলো জাদুঘর বা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে—যা বিশ্বের মুসলিম জনগণের মধ্যে ঐতিহ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে।
গিলাফ তৈরিতে ডিজিটাল নকশা প্রযুক্তি, AI embroidery বা রোবটিক সেলাই প্রযুক্তি ব্যবহারের চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে—যা প্রথাগত ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাবে।
পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ পরিবর্তন শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি ইসলামী ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ। প্রতি বছর এই সময় বিশ্বজুড়ে কোটি মুসলমান এই দৃশ্য দেখে আবেগে আপ্লুত হন। ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গেও এই ঐতিহ্য কীভাবে টিকে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১. কিসওয়া কী?
→ কিসওয়া হলো পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ, যা কালো সিল্ক ও স্বর্ণের সুতা দিয়ে তৈরি।
২. কখন গিলাফ পরিবর্তন করা হয়?
→ প্রতি হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন এটি পরিবর্তন করা হয়।
৩. গিলাফ তৈরির দায়িত্ব কে পালন করে?
→ কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর হলি কাবা কিসওয়া।
৪. গিলাফ তৈরিতে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়?
→ কালো সিল্ক, স্বর্ণ, রুপা এবং বিশেষ ধরনের সুতা।
৫. পুরনো গিলাফের কী হয়?
→ সৌদি সরকার এটি সংরক্ষণ করে বা বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি কেন্দ্রে উপহার দেয়।
৬. গিলাফ তৈরিতে কতজন কাজ করেন?
→ প্রায় ২০০ জন দক্ষ কারিগর ও ইসলামিক ক্যালিগ্রাফার গিলাফ তৈরির কাজে যুক্ত।
৭. কাবার গিলাফ পরিবর্তনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
→ এটি ইসলামের ঐক্য ও মুসলিমদের সম্মিলিত শ্রদ্ধার প্রতীক।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |