অর্থনৈতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬
দীর্ঘ প্রায় চার মাসের চরম অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা ও গভীর উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমণ করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন সমুদ্রগামী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় এই সংঘাতপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়। বিএসসি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে জাহাজটি প্রয়োজনীয় জ্বালানি (অয়েল বাংকারিং) সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা বন্দরের দিকে ধাবমান রয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) উচ্চপদস্থ সংশ্লিষ্ট সূত্র আজ সকালে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন কোনো বাধা ছাড়াই পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে। সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও জাহাজে অবরুদ্ধ থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক এবং ক্রু সদস্যের সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।
জাহাজটির যাত্রাপথে মূলত জটিলতার সূত্রপাত ঘটেছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে। ভারত থেকে বাণিজ্যিক পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এরপর কাতারের একটি শুল্ক বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ স্টিল কয়েল বোঝাই করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।
ঠিক এই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আচমকা হামলার পর ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ফলস্বরূপ, সমগ্র পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজটি কার্যত পারস্য উপসাগরের জলসীমায় অবরুদ্ধ বা আটকা পড়ে।
পরবর্তীতে ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে সফলভাবে পণ্য খালাসের পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজটির কুয়েতের দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তার চরম ঘাটতি ও যুদ্ধকালীন ঝুঁকির কারণে বিএসসি সদর দপ্তর থেকে কুয়েত যাত্রা বাতিল করে রুট পরিবর্তন করা হয়।
জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে পাঠানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। তবে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে দীর্ঘ সময় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় জাহাজটি চার মাস ধরে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরেই অলস ও অবরুদ্ধ অবস্থায় অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হয়েছিল। অবশেষে আজ ভোরে জাহাজটি মুক্ত হয়ে জলসীমায় ডানা মেলায় স্বস্তি ফিরেছে বিএসসি ও নাবিকদের পরিবারে।
জাহাজের মালিকানা: বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।
হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময়: মঙ্গলবার (২৩ জুন), বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা।
বর্তমান গন্তব্য ও উদ্দেশ্য: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর (জ্বালানি সংগ্রহ)।
নাবিকদের সার্বিক অবস্থা: জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সবাই নিরাপদ আছেন।
অবরুদ্ধ থাকার সময়কাল: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ ৪ মাস আটকা ছিল পারস্য উপসাগরে।
বহনকৃত বর্তমান পণ্য: সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে নেওয়া ৩৭ হাজার টন সার।
চূড়ান্ত গন্তব্য: দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর।
বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বিশেষ নৌ-নিরাপত্তা প্রজ্ঞাপন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির বর্তমান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সমুদ্র কূটনীতি এবং দেশের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |