| বঙ্গাব্দ

ইরানের অর্থ দিয়ে মার্কিন পণ্য কেনা হবে, জানালেন জেডি ভ্যান্স | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-06-2026 ইং
  • 16386 বার পঠিত
ইরানের অর্থ দিয়ে মার্কিন পণ্য কেনা হবে, জানালেন জেডি ভ্যান্স | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: জেডি ভ্যান্স

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অর্থ ডাইভার্ট হবে মার্কিন কৃষি বাজারে, কাতারকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মাস্টারপ্ল্যান

বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল 

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের ঐতিহাসিক বুর্গেনস্টক রিসোর্টে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইরানের জব্দকৃত ও অবমুক্ত করা সম্পদ নিয়ে ওয়াশিংটনের একটি সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যাতে এই বিপুল অর্থ কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বা সামরিক খাতে ব্যবহার করতে না পারে—বরং সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার যৌথভাবে একটি কঠোর ও বিশেষ প্রক্রিয়া তৈরি করছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, ইরানের অবমুক্ত করা অর্থ দিয়ে সরাসরি মার্কিন পণ্য কেনা নিশ্চিত করা, যা একই সাথে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং ইরানের সাধারণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তায় উপকারে আসবে।

জ্যারেড কুশনার ও কাতারের যৌথ ‘ট্রাম্প ডিল’

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও শীর্ষ সহযোগী জ্যারেড কুশনার এই বিষয়ে কাতারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে একটি যৌথ প্রস্তাবনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের কোনো জব্দ করা সম্পদ যদি আন্তর্জাতিক সমঝোতার আওতায় অবমুক্ত করা হয়, তবে তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের সেন্ট্রাল ফান্ডের হাতে থাকবে।

সবচেয়ে বড় চমক হলো, সেই অবমুক্ত করা অর্থ তেহরান সরাসরি ক্যাশ বা নগদ হিসেবে পাবে না। ওই অর্থ দিয়ে আমেরিকার উৎপাদিত সয়াবিন, ভুট্টা এবং গম কেনা হবে, যা পরবর্তীতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইরানের জনগণের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে তেহরানে পাঠানো হবে। ভ্যান্স এটিকে একটি ক্লাসিক ‘ট্রাম্প ডিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "এই অনন্য উদ্যোগ একদিকে মার্কিন কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ ও চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন জোগাবে।" একই সাথে এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার তৈরি করা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইসরাইলের উদ্বেগ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বস্তি

ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা নিয়ে বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হওয়া তীব্র উদ্বেগ মূলত ভুল তথ্যের কারণে ছড়িয়েছে উল্লেখ করে ভ্যান্স তা সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও মার্কিন এই আলোচনার প্রতিটি স্পর্শকাতর পদক্ষেপে ওয়াশিংটন তার পরম মিত্র ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এমনকি আলোচনার অংশ হিসেবে ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং লেবাননের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এই বিষয়ে আমেরিকার বিস্তারিত কথা হয়েছে। ফলে এটি কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া একক কোনো চুক্তি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমেরিকার এমন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতার জন্য অনুরোধ করে আসছিল।

বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো, যারা গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র ইরানি সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে তৈরি হওয়া ভয়াবহ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ভুগছিল, তারা ওয়াশিংটন-তেহরানের এই উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানাচ্ছে। অবশ্য ইসরাইলি কর্মকর্তারা এখনো ইরানের প্রতি যেকোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও দ্বিমত প্রকাশ করে আসছেন।

শান্তি না এলে বিকল্প পথও খোলা: ট্রাম্প প্রশাসন

সার্বিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কূটনীতি নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অশান্ত অঞ্চলে একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তির শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করতে চান।" তবে আমেরিকার এই সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও 'বুর্গেনস্টক ডিল' যদি শেষ পর্যন্ত সফল না হয়, তাহলেও আমেরিকার এবং তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে আরও অনেক ধরণের বিকল্প ও কঠোর সামরিক পথ খোলা রয়েছে। আপাতত মার্কিন প্রশাসন এই শান্তিপূর্ণ ও অর্থনৈতিক পথেই আলোচনা চালিয়ে যেতে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিখ্যাত সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে ভ্যান্সের এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এক নজরে ইরানের অবমুক্ত অর্থ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা (জুন, ২০২৬)

মার্কিন-ইরান চুক্তির প্রধান দিকসমূহজেডি ভ্যান্স ও ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থান
অর্থের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিঅবমুক্ত করা অর্থের অনুমোদন প্রক্রিয়া যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের হাতে থাকবে।
ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট খাতনগদ অর্থ নয়; ইরানের টাকা দিয়ে কেনা হবে আমেরিকার সয়াবিন, ভুট্টা ও গম
পরিকল্পনার মূল রূপকারমার্কিন প্রেসিডেন্টের শীর্ষ সহযোগী ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ জ্যারেড কুশনার
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ লাভএই ডিলের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন এবং লাভবান হবেন মার্কিন কৃষকেরা
আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানসৌদি, ইউএই ও লেবানন শান্তি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানালেও ইসরাইলের তীব্র উদ্বেগ
ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত বার্তাকূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন নিরাপত্তা রক্ষায় অন্যান্য বিকল্প পথ খোলা

বিশেষ প্রতিনিধি: BDs Bulbul 

হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য নীতি, জ্যারেড কুশনারের কাতার মিশন, বুর্গেনস্টক শান্তি চুক্তির সর্বশেষ খসড়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency