প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা | ৯ আগস্ট ২০২৫
প্রশাসনে আবারও তিন স্তরের পদোন্নতির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি বিসিএস ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। এরপরে সেপ্টেম্বর মাসেই খুলতে পারে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির দ্বার। একই সময়ে আলোচনায় রয়েছে বিসিএস ২৪তম ব্যাচের ‘পদোন্নতিবঞ্চিত’ ১৮২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) ইতোমধ্যে পদোন্নতিযোগ্য আট শতাধিক কর্মকর্তার চাকরিজীবনের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির মেয়াদ, শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি সংক্রান্ত রেকর্ড এবং কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন।
আগামীকাল শনিবার উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে এসএসবির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে। অনুমোদন পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—
অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ: ২১২, কর্মরত: ৩৫৮ জন
যুগ্ম সচিবের অনুমোদিত পদ: ৫০২, কর্মরত: ১,০২৮ জন
উপসচিবের অনুমোদিত পদ (সুপারনিউমারারি পদসহ): ১,৪২০, কর্মরত: ১,৪০০ জন
অর্থাৎ প্রতিটি স্তরেই অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি কর্মকর্তা রয়েছেন। এর ফলে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অনেককে আগের পদে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
২০১২ সালের ৩ জুন সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া বিসিএস ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০২২ সালের ৩ জুন থেকেই উপসচিব পদে পদোন্নতির যোগ্য হন। কিন্তু নানা প্রশাসনিক পরিবর্তন ও সরকারের পতনের কারণে এই পদোন্নতি আটকে ছিল।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর এসএসবিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আসে, যা পদোন্নতির গতি মন্থর করে। এই ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারের ৩১৯ জন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ক্যাডারের আরও ২২৩ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হয়েছেন।
যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে বিসিএস ২০তম ব্যাচকে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশাসন ক্যাডারের ২৪৪ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক বা একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৮৩ জন কর্মকর্তাকে এ দফায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
গত ২০ মার্চ প্রশাসনে ২৪তম ব্যাচসহ ১৯৬ জন কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে ১৮২ জনকে ‘বঞ্চিত’ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের গণআবেদনের প্রেক্ষিতে রিভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে শেষের দিকে এই ব্যাচসহ বিভিন্ন ক্যাডারের ১০০-১৫০ জন কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রে পদোন্নতি সবসময়ই রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সিনিয়রিটির মিশ্রণে হয়ে থাকে। ১৯৯০-এর দশক থেকে বর্তমান পর্যন্ত সরকারের পরিবর্তনের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি আটকে গেছে বা ত্বরান্বিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর এবার তুলনামূলকভাবে যোগ্যতা ও রেকর্ড ভিত্তিক পদোন্নতির প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যাপক পদোন্নতি শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার উন্নয়নই নয়, প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন নেতৃত্ব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অতিরিক্ত সংখ্যক পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জন্য কার্যকর পদের ঘাটতি একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে রইল।
সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, এসএসবি বৈঠকের কার্যপত্র, কালের কণ্ঠ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |