| বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও তাঁর ম্যানচেস্টারিজম দর্শন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-06-2026 ইং
  • 16467 বার পঠিত
ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও তাঁর ম্যানচেস্টারিজম দর্শন
ছবির ক্যাপশন: ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম

ডাউনিং স্ট্রিটের রেসে সবার আগে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ অ্যান্ডি বার্নহাম; আলোচনায় তাঁর ‘ম্যানচেস্টারিজম’ দর্শন

বিশেষ প্রতিনিধি: BDS Bulbul Ahmed

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে কিয়ার স্টারমারের আকস্মিক পদত্যাগের পর দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল গুঞ্জন ও হিসাব-নিকাশ। সোমবার (২২ জুন) স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। তবে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে যাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তিনি হলেন লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। কিছুদিন আগেও তিনি ব্রিটেনের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

মেয়র থেকে পার্লামেন্টে: বার্নহামের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

চলতি মে মাসে যখন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের তীব্র দাবি উঠতে শুরু করে, ঠিক তখনই অ্যান্ডি বার্নহাম কৌশলগতভাবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত সেই উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে বার্নহাম সরাসরি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের (হাউস অব কমন্স) সদস্য বা এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর এই জয় লেবার পার্টির ভেতরে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহাম কিন্তু ব্রিটিশ জাতীয় রাজনীতিতে কোনো নতুন মুখ নন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন লেবার প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছেন। পরবর্তীতে তিনি দুই দুইবার লেবার পার্টির প্রধান বা নেতৃত্বের লড়াইয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে বামপন্থী নেতা জেরেমি করবিনের কাছে দলীয় ভোটে হেরে যান তিনি। জাতীয় রাজনীতির সেই ধাক্কা সামলে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র পদে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন।

যেভাবে হলেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরের রাজা

উত্তর ইংল্যান্ডের এই মেগাসিটির মেয়র থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালে বার্নহাম তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে এক সুদৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির চরম সংকটের সময়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন উত্তর ইংল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা না দিয়েই ম্যানচেস্টারে কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরোপ করতে গিয়েছিলেন।

তখন লন্ডনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও লড়াই করেছিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সাধারণ মানুষের পক্ষে তাঁর এমন সাহসী ও বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে সমগ্র ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বার্নহাম এক ব্যাপক ও আকাশচুম্বী জনসমর্থন অর্জন করেন। এই আন্দোলনের পর থেকেই মূলত ব্রিটিশ জনগণ ও গণমাধ্যম তাঁকে ভালোবেসে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা ‘উত্তরের রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করে। একই সাথে যুক্তরাজ্যের জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ শক্তিশালী হয়।

কী এই ‘ম্যানচেস্টারিজম’ দর্শন?

কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের নামের পাশাপাশি বর্তমানে সমভাবে আলোচনায় এসেছে তাঁর প্রবর্তিত বিশেষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তত্ত্ব ‘ম্যানচেস্টারিজম’ (Manchesterism) দর্শন। এই দর্শনের মূল বার্তা বা দর্শনটি গড়ে উঠেছে মূলত আধুনিক ‘ব্যবসাবান্ধব নীতি’ এবং কল্যাণকামী ‘সমাজতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা’—এই দুইয়ের এক চমৎকার ও বাস্তবসম্মত সুষম সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে।

বার্নহাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, মেয়র থাকাকালীন তাঁর অধীনে ম্যানচেস্টার শহরের যে অভূতপূর্ব ও দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান ঘটেছে, সেখান থেকে পাওয়া সফল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে দেশীয় প্রেক্ষাপটে কাজে লাগিয়ে বর্তমান যুক্তরাজ্যের ভঙ্গুর ও সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো এবং পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ভোটাভুটিতে ‘উত্তরের রাজা’ অ্যান্ডি বার্নহাম শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের মসনদে বসতে পারেন কি না।

এক নজরে অ্যান্ডি বার্নহামের রাজনৈতিক প্রোফাইল ও সমীকরণ (জুন, ২০২৬)

  • বর্তমান বয়স: ৫৬ বছর।

  • বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতি: উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের নবনির্বাচিত লেবার এমপি।

  • পূর্বতন অভিজ্ঞতা: গর্ডন ব্রাউন সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক সফল মেয়র।

  • ঐতিহাসিক উপাধি: করোনাকালে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে পেয়েছেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’ (উত্তরের রাজা) উপাধি।

  • অর্থনৈতিক দর্শন: ‘ম্যানচেস্টারিজম’ (ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সমাজতন্ত্রের এক অনন্য মিশ্রণ)।

  • প্রধান লক্ষ্য: ম্যানচেস্টারের অর্থনৈতিক মডেলের আদলে যুক্তরাজ্যের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া, লেবার পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক, ব্রিটিশ পাউন্ড ও বৈশ্বিক বন্ড মার্কেটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency