বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ কারাগারে: ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ উৎস: আদালত সূত্র, দুদক মামলা নথি, যুগান্তর রিপোর্ট
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ১৮ জুন দুদকের করা মামলার এজাহারে বলা হয়—
সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের নিরাপত্তা ভঙ্গ, পিপিআর (২০০৮) বিধিমালা লঙ্ঘন, নকশা পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন:
একেএম নূর-উন-নবী (সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক)
মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী)
মো. আ. সালাম বাচ্চু (ঠিকাদার)
এমএম হাবিবুর রহমান (ঠিকাদার প্রতিনিধি)
মামলার বিবরণ থেকে উঠে আসে নিম্নলিখিত অনিয়ম:
প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ডিপিপি (Development Project Proposal) উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন
৩০ কোটির বেশি মূল্যের চুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সম্পাদন
ঠিকাদারের জামানত ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে জমা রেখে, পরবর্তীতে সেই এফডিআর থেকে লোনের জন্য 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' প্রদান
সরকারি অর্থের ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ
অগ্রিম বিল অনুমোদন ও সমন্বয়ের আগেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা
দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে খরচ বাড়ানো
ফ্রন্ট লোডিং ও দরপত্র মূল্যায়নে ঘাটতি
এই অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে ছিল পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার, যেটি রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুদক বলছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী মালামাল জব্দ, সম্পদের হিসাব তলব এবং সম্পত্তি ফ্রিজ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রকল্পভিত্তিক দুর্নীতি দেশের শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতির বিচার না হলে তা দীর্ঘমেয়াদে অধ্যাপক–শিক্ষার্থী–প্রশাসনের মধ্যকার আস্থার দেয়াল ভেঙে দিতে পারে।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারা হক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন,
“এটি কেবল একটি দুর্নীতির মামলা নয়, এটি শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রশ্নেরও মামলা। দায়ীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
দুদক মামলা নথি (মামলা নং ৩৭/২০২৫)
ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত
যুগান্তর রিপোর্ট, ৭ আগস্ট ২০২৫
পিপিআর ২০০৮ বিধিমালা, পরিকল্পনা কমিশন সংকলন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ২০২৩–২০২৪
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |