নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সমন্বয় করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ শৈলীতে একটি বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করে দেওয়া হলো।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ ডিসেম্বর। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অবশেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্যে তিনি নিজেই এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, "আজকের এই অনুষ্ঠানটি দুটি কারণে বিশেষ—এক ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস, আর দ্বিতীয়টি হলো প্রায় ১৭-১৮ বছর আমি আপনাদের সাথে যুক্তরাজ্যে ছিলাম; কিন্তু আগামী ২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আমি দেশে চলে যাচ্ছি।" নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, "সামনের দিনগুলো খুব সহজ হবে না। ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলে আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো সফল করতে পারব এবং আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।"
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কোনো শীর্ষ নেতার দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরা সবসময়ই রাষ্ট্রের গতিপথ বদলে দিয়েছে। ১৯৫০-এর দশক থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই ধারা বারবার লক্ষ্য করা গেছে।
১৯৫০-১৯৭০ (সংগ্রামের সময়): ১৯৫০-এর দশকে ভাষার লড়াই থেকে শুরু করে ৭০-এর নির্বাচন পর্যন্ত অনেক নেতাকে জেল ও নির্বাসন ভোগ করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন, যা পূর্ণতা দিয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে।
১৯৮১-এর মে মাস: ১৯ মে ১৯৮১ সালে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন তৎকালীন আওয়ামী লীগকে নতুন প্রাণ দিয়েছিল।
২০২৪-২০২৫ (পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, ঠিক তখনই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত ধাপ’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতারা। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাঁর ফিরে আসা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের ফেরার ঘোষণায় বিএনপি সমর্থকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ‘সেকেন্ড হোমকামিং’। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ফেরা কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং ২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে বিরোধী শিবিরের জন্য একটি বড় টনিক হিসেবে কাজ করবে। তিনি এমন এক সময়ে ফিরছেন যখন দেশে সংস্কার কর্মসূচি এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার জন্ম হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা এক নতুন বাঁকে দাঁড়িয়েছে। তারেক রহমান এমন এক সময়ে ফিরছেন যখন তার দল ও সমর্থকরা দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতার বাইরে থেকে এক ধরণের রাজনৈতিক পুনর্জন্মের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর তাঁর অবতরণের দিনটি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সূত্র: যুক্তরাজ্য বিএনপি মিডিয়া উইং, যুগান্তর ডিজিটাল, রয়টার্স এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পলিটিক্যাল ডেস্ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |