| বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে: ৬৯ অডিও ক্লিপ ও সিডিআর জব্দ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-09-2025 ইং
  • 4106426 বার পঠিত
শেখ হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে: ৬৯ অডিও ক্লিপ ও সিডিআর জব্দ
ছবির ক্যাপশন: শেখ হাসিনার ফোনালাপ

শেখ হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং ৩টি মোবাইল নম্বরের সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ফোনালাপ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৫৩তম সাক্ষী উপস্থাপনের সময় বাজানো হয় এবং সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।


কার সঙ্গে ফোনালাপ

জব্দ করা অডিওর মধ্যে যেগুলো আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে—

  • শেখ ফজলে নূর তাপস (সাবেক মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও শেখ হাসিনার আত্মীয়) এর সঙ্গে একটি ফোনালাপ।

  • হাসানুল হক ইনু (জাসদের সভাপতি) এর সঙ্গে দুটি ফোনালাপ।

  • এ এস এম মাকসুদ কামাল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য) এর সঙ্গে একটি ফোনালাপ।


সাক্ষীর জবানবন্দি

মামলার বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা আদালতে বলেন—

  • তিনি বিটিআরসি, এনটিএমসি, ডিএমপি এবং ফরেনসিক শাখাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অডিও, ভিডিও, সিডিআর, আইপিডিআর, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।

  • ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার ফোনালাপের ৬৯টি অডিও ক্লিপ ও ৩টি মোবাইল নম্বরের সিডিআর জব্দ করেন।

  • ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, ক্লিপগুলোতে কণ্ঠস্বর সত্যিই শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস, হাসানুল হক ইনু ও এ এস এম মাকসুদ কামালের।


অডিওর বিষয়বস্তু

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপগুলোয় ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র আন্দোলন দমন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • সরাসরি গুলির নির্দেশ

  • ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত

  • হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার আলোচনা

  • ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ

  • ছাত্র আন্দোলনকারীদের “রাজাকার” আখ্যা দিয়ে ফাঁসির কথা উল্লেখ

এগুলোই আদালতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


আসামি ও মামলার অবস্থা

  • মূল আসামি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • অপর আসামি: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

  • মামুনকে ইতিমধ্যে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

৫৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি শেষে তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।


তদন্তের ধাপ

  • প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা: মো. জানে আলম খান

  • পরবর্তী তদন্ত: মো. আলমগীর (উপপরিচালক)

  • সহযোগিতা: বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা

  • ১২ মে ২০২৫: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

  • ৩১ মে: সম্পূরক অভিযোগ দাখিল

  • ১ জুন: আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন

  • ১০ জুলাই: অভিযোগ গঠন এবং শুনানি শুরু


বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি সম্প্রচারিত হলো। এর মধ্য দিয়ে মামলার রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব আরও বেড়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন রায়।


সূত্র

  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কার্যক্রম (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫)

  2. প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা – সাক্ষ্য উপস্থাপন

  3. সিআইডি ফরেনসিক রিপোর্ট – কণ্ঠস্বর শনাক্তকরণ (জানুয়ারি ২০২৫)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency