| বঙ্গাব্দ

গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝে প্রতিদিন ১টি শিশু খুন: ইউনিসেফ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-06-2026 ইং
  • 14147 বার পঠিত
গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝে প্রতিদিন ১টি শিশু খুন: ইউনিসেফ
ছবির ক্যাপশন: গাজা

অক্টোবরের পর থেকে ২৬৫ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত, ওষুধের অভাবে পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে শত শত শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬

ইসরাইলের সাথে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর থেকে গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত ও নৃশংস হামলার মুখে এই কথিত যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘নিষ্ঠুর এবং মারাত্মক বিভ্রম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় সংবাদমাধ্যমের সামনে এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বৈরিতা অবসানের (যুদ্ধবিরতি) আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

বিশ্ব যখন যুদ্ধবিরতির ভাষা বলছে, গাজা তখন লাশের স্তূপ

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যে সময়টি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সংযম এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত ছিল, সেই তথাকথিত শান্তির সময়েও আট মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশু নিহত হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, এই ক্রমাগত শিশু মৃত্যু প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধবিরতি কতটা ফাঁপা এবং এটি ফিলিস্তিনি শিশুদের ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এল্ডার বলেন, "বিশ্ব যখন টেবিল-বৈঠকে যুদ্ধবিরতির ভাষা নিয়ে কথা বলছে, তখন গাজার অসহায় পরিবারগুলো প্রতিদিন তাদের নিষ্পাপ ছেলে-মেয়েদের দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে।"

ইউনিসেফের মুখপাত্র জানান, গাজার শিশুরা এখন আর তাদের নিজেদের বাড়ি, বিদ্যালয় কিংবা খেলার মাঠের মতো জনসমাকীর্ণ স্থানেও নিরাপদ নয়। এমনকি ফুটবল খেলার সময় কিংবা সমুদ্রতীরে মাছ ধরার সময়ও তারা ইসরাইলি বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের কয়েকটি লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:

  • ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি গুলিতে এক ২ বছর বয়সি শিশু নিহত হয়েছে।

  • নিজের তাঁবুর ভেতরে ঘুমন্ত বা বসা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে এক ১৩ বছর বয়সি কিশোর।

  • ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ৫ বছরের শিশু এবং তার বাবা।

৪০০-র বেশি শিশু পঙ্গু, ওষুধের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

জেমস এল্ডার জানান, শুধু মৃত্যুই নয়, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৪০০-রও বেশি শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, যাদের অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং এই আঘাত তাদের চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো। তিনি সতর্ক করে বলেন, শত শত শিশুর জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। কিন্তু গাজার সীমান্তগুলোতে ইসরাইল কর্তৃক প্রয়োজনীয় লাইফ সেভিং ওষুধের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে আহত শিশুদের ক্ষতস্থানে মারাত্মক ইনফেকশন (সংক্রমণ) ছড়াচ্ছে এবং এতে নতুন করে অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

তাঁবুর ভেতরে থাকা অবস্থায় এক ১২ বছর বয়সি শিশুর বুকে গুলি করা এবং ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ইসরাইলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে ছোঁড়া গুলিতে ৩ বছর বয়সি এক শিশুর মুখমণ্ডল ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। ইসরাইলের দখলদারিত্বের তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ও ‘অরেঞ্জ লাইন’ সীমানার ক্রমাগত সম্প্রসারণের দিকে ইঙ্গিত করে এল্ডার বলেন, "অরেঞ্জ লাইনের কাছাকাছি একটু জোরে হাঁচি দিলেও আপনাকে বা আপনার শিশুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া লাগতে পারে।"

ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শৈশবের ট্রমা

মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি ইসরাইলি অবরোধ এবং সামরিক বিধিনিষেধের কারণে গাজার শিশুরা একটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক মাসের বোমাবর্ষণ ও অবরোধের কারণে হাসপাতালগুলো ওষুধ, জরুরি মেডিকেল জ্বালানি, পর্যাপ্ত কর্মী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ও তীব্রতর সংকটে ভুগছে।

গাজার শিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এল্ডার বলেন, "গাজার শিশুদের জন্য মৃত্যুভয়, স্বজন হারানো এবং চোখের সামনে সহিংসতা দেখা এতটাই নিয়মিত ও স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ট্রমা বা মানসিক আঘাত এখন আর তাদের জীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি তাদের শৈশবের পরতে পরতে মিশে গেছে।" তিনি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধ সমস্ত সরকার ও বৈশ্বিক সংস্থাকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি লেবাননের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানেও গত ২ মার্চ থেকে সহিংসতা বৃদ্ধির পর ইউনিসেফের তথ্যমতে ২৪৭ জন শিশু নিহত এবং ৯৯২ জন শিশু আহত হয়েছে।

সর্বমোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

এদিকে, গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বর্বর হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩,০১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৩,২৭৩ জনে

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ১১ অক্টোবর ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি হামলায় নতুন করে ১,০০৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,১৬৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোপূর্বে দুর্গম ও ধ্বংসস্তূপ এলাকাগুলো থেকে আরও ৭৮৪ জনের পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করেছে।

এক নজরে গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি হামলার ভয়াবহতা (২০২৬ সালের আপডেট)

সূচক ও অঞ্চলগাজা উপত্যকার চিত্রলেবাননের চিত্র
যুদ্ধবিরতির পর শিশু মৃত্যুকমপক্ষে ২৬৫ জন (প্রতিদিন গড়ে ১টি শিশু)
যুদ্ধবিরতির পর শিশু আহত৪০০ জনেরও বেশি (পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে)
সামগ্রিক শিশু হতাহত (সর্বশেষ সংঘাত)২৪৭ জন নিহত, ৯৯২ জন আহত
৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে মোট মৃত্যু৭৩,০১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত
৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে মোট আহত১৭৩,২৭৩ জন ফিলিস্তিনি আহত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবাধিকার ডেস্ক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং জাতিসংঘের সব এক্সক্লুসিভ খবরের লাইভ আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency