ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরান তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে আলোচনায় বসবে না। ইরানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির ব্যাপারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, "আপনার যা খুশি তাই করুন, আমি আপনার সঙ্গে আলোচনায় বসবো না।" এ মন্তব্যটি মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে এই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যেসব হুকুম ও হুমকি দিচ্ছে, তা ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।" এর মাধ্যমে তিনি ইরানের আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার প্রতি দেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি আপনার (ট্রাম্প) সঙ্গে আলোচনায় বসবো না, এবং ইরানের জনগণও কখনোই এমন হুমকির মধ্যে পড়তে প্রস্তুত নয়।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শনিবার (৮ মার্চ) একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ইরানকে কোনো হুমকি দিয়ে আলোচনায় আনা যাবে না।” খামেনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা কিংবা তাদের ইচ্ছামতো আলোচনা করার কথা তেহরান কখনোই মেনে নেবে না।” তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতিতে তার স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিন আগে, অর্থাৎ শুক্রবার (৭ মার্চ) ইরানকে চিঠি পাঠিয়ে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের প্রকৃত বিপদ থেকে ইরানকে বিরত রাখার জন্য একটি নতুন চুক্তি করতে চাই।” তবে ইরান এমন হুমকির মধ্যে কখনো আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেবে না বলে নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ফক্স বিজনেসের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে, “ইরানকে সামলানোর দুটি উপায় রয়েছে: এক, সামরিকভাবে, এবং দুই, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে তাদের বিরত রাখার জন্য একটি চুক্তি সাইন করা।” তবে, এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এমন কোনো আলোচনা গ্রহণ করবে না, যেটি তাদের জাতীয় মর্যাদার বিরোধী হবে।
গত দুই বছরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর পর থেকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে যায় এবং অনেক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পারস্পরিক অমিল দেখা দেয়।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একের পর এক হুমকির মুখে। ইরানও নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে এবং জনগণের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্পের পক্ষে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কৌশলকে সমর্থন করছেন, তবে ইরানের শক্তিশালী প্রতিরোধ ও তার দেশীয় নীতি স্বতন্ত্র থাকার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয় হলো, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি কিভাবে এই সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারে এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা কী হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে অনেক অজানা প্রশ্ন রয়েছে, যা আগামী দিনগুলিতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |