ক্রীড়া প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬
দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এই প্রথম অসিদের হারাাল টাইগাররা। একই সাথে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নতুন ইতিহাস।
বিশ্বকাপের রেকর্ড ছয়বারের শিরোপাজয়ী অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে (ডিএল মেথড) ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি মাতানো এই জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মঙ্গলবার মিরপুরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানের লড়াকু পুঁজি খাড়া করে। ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে দলে ফিরে মাঠে নেমেই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরে ৭০ বলে ৭টি চার আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রানের একটি ধ্বংসাত্মক ও অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি।
মোসাদ্দেকের এই বিধ্বংসী ইনিংসের পাশাপাশি ৮৬ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এছাড়া ইনিংসের শুরুতে ৪৪ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন পেসার নাথান ইলস।
২৮৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই অসি শিবিরে আঘাত হানেন টাইগার স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদ। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে 'গোল্ডেন ডাক' মেরে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট।
পরের ওভারেই বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন কাটারমাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই কোমর ভেঙে যায় অসিদের।
এরপর ১০.১ ওভারে দলীয় ৫১ রানে অসি অধিনায়ক জশ ইংলিসকে (১৯) উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান গতিদানব নাহিদ রানা। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে এক প্রান্ত ধরে রাখার চেষ্টা করা কুপার কনোলিও ৫০ বলে ৩৫ রান করে দলীয় ৯১ রানে বিদায় নেন।
পঞ্চম উইকেটে ৩৭ রান জমা করে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। এক পর্যায়ে ৪ উইকেটে ১২৮ রান করা অস্ট্রেলিয়া এরপর মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে ৫টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে যায়। ৪৭ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে ধস নামান টাইগারেরা।
১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় যখন সময়ের ব্যাপার, তখন শেষ ব্যাটসম্যান অ্যাডাম জাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ চেষ্টা চালান ক্যামেরন গ্রিন। শেষ উইকেটে তারা ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন। গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমান।
অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর মিরপুরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর আর খেলা মাঠে না গড়ালে ডকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৮৬ রানের ঐতিহাসিক জয় লাভ করে।
বাংলাদেশ দলের হয়ে বল হাতে একাই আগুন ঝরিয়েছেন নাহিদ রানা, তিনি নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট। এছাড়া ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর বল হাতেও ২টি উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ২িটি উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠছে মোসাদ্দেকের হাতে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |