কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত আকারের সামরিক উত্তেজনা এবং এর রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে।
শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কগুলোতে এই স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মূলত গত শুক্রবারের (৫ জুন) সামরিক সংঘাতটি নতুন করে বড় কোনো যুদ্ধের রূপ নেয়নি—বিনিয়োগকারীদের এমন ইতিবাচক মূল্যায়নের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।
জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক তেল বাজার বিষয়ক নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ওলপ্রাইজ ডটকম (Oilprice.com)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দামের গ্রাফ এখন অনেকটাই নিচের দিকে:
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৯৪ ডলার বা ২.০৪ শতাংশ কমে ৯৩.০৯ ডলারে নেমে এসেছে।
ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য তেল: মারবান ক্রুডের দাম ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩.process শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে নেমেছে।
তেলের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে, তবে মোটর চালকদের ব্যবহৃত গ্যাসোলিনের দাম সামান্য (০.২৫ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার্থে ইরানের চারটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছিল। এই ঘটনার জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা এবং ইরানের তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা গুপ্ত নৌবহরের অংশ ‘এমটি ডভিনা’ (MT Dovina) নামক একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা এই দানবীয় ট্যাংকারটি অবৈধভাবে ইরানি অপরিশোধিত তেল চীনে পাচার করে আসছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই পুরো হাই-প্রোফাইল অভিযানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আংশিক নিয়ন্ত্রণ নেয় তেহরান। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নিজস্ব নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বাজারে চরম অস্থিরতা চলছিল, যা বছরের শুরুতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ওমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাঝে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুই দেশের নৌবাহিনী মুখোমুখি হচ্ছে। তবে শনিবারের এই বড় দরপতন প্রমাণ করে যে শুক্রবারের মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়নি। বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আপাতত ঝুঁকিতে পড়ছে না এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকছে—ব্যবসায়ীদের এমন মানসিক স্বস্তির কারণেই তেলের বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দরদাম, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সব ব্রেকিং নিউজ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
তথ্যসূত্র: এই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক তেল বাজার ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘অয়েলপ্রাইজ ডটকম’ (Oilprice.com), ‘গালফ নিউজ’ (Gulf News) এবং
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |