প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসন ও ভোট ব্যবস্থাপনায় পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরিতে নিরপেক্ষতার ঘাটতি আছে এবং সেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ধারার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে—যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। সোমবার রাতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়; সিদ্ধান্ত হয়, শিগগিরই ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি ও প্রস্তাব দেবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুতের জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে—৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর অফিসিয়াল চিঠিতে জানানো হয়। বিএনপির বৈঠকে নেতারা বলেন, প্যানেল প্রণয়নের এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে আস্থাহীনতা বাড়বে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’ বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক; তবে চূড়ান্ত কপিতে নিজেদের প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছে। সনদটি দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ১৭ অক্টোবর নির্ধারিত—এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও একাধিক গণমাধ্যম। বিএনপি নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চূড়ান্ত টেক্সটে আপত্তি না থাকলে দলটি স্বাক্ষর করবে।
বিএনপি মনে করে, নির্বাচনই গণতন্ত্রে ফেরার একমাত্র পথ—তাই নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় যে কোনো পক্ষপাত দূর করতে হবে। সে লক্ষ্যে—
ইসিতে লিখিত আপত্তি ও সুপারিশ পেশ: প্যানেল প্রণয়ন ও ট্রেনিংয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মানদণ্ড, যাচাইপ্রক্রিয়া ও নজরদারি জোরদার করার প্রস্তাব দেবে বিএনপি।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফেরার পর সিনিয়র নেতারা সাক্ষাৎ করে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক বদলি ও উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলবেন—এমন পরিকল্পনার কথাও শোনা গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নপদ্ধতি ও রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আলোচিত।
ইসি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ৯ লাখের বেশি (প্রায় ৯.৩১ লাখ) ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পাবে; ৪৫ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। মাঠপর্যায়ে প্যানেল চূড়ান্তের পর ধাপে ধাপে ট্রেনিং শুরু হবে।
নিয়োগের উৎস বৈচিত্র্য: সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবখান থেকে তালিকা এলে ভারসাম্য বাড়ে; এক উৎসে আধিক্য পারসেপশন অফ বায়াস তৈরি করে।
মানদণ্ড ও ডিসকোয়ালিফিকেশন রুলস: চাকরির গ্রেড, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, পূর্ব শৃঙ্খলাভঙ্গ—এসব স্পষ্ট না হলে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়ে; ইসির সার্কুলারগুলিতে এই রুলস স্পষ্ট করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা–যোগাযোগ: জেলা পর্যায়ে প্যানেল চূড়ান্ত হলে পাবলিক নোটিস/ব্রিফিং দিলে আস্থা বাড়ে; আন্তর্জাতিক উত্তমচর্চাও তাই বলে। (প্রেক্ষাপট: ইসি কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়ন–চাহিদা ও ট্রেনিং প্রস্তুতি)।
প্যানেলের স্ক্রুটিনি ও অবজেকশন উইন্ডো—জেলা ইসিতে সংক্ষিপ্ত আপিল-আপত্তির জানালা খুলে নাম বাদ/সংযোজনের সুযোগ রাখা।
র্যান্ডমাইজড অ্যাসাইনমেন্ট—চূড়ান্ত প্যানেল থেকে লটারিভিত্তিক নিয়োগ ও ক্রস-জিলা ডিপ্লয়মেন্ট করলে স্থানীয় প্রভাব কমে। (ইসি প্রস্তুতি আলোচনার প্রেক্ষাপট)।
রিয়েল-টাইম মনিটরিং—ভোটের দিন ডিজিটাল ডিউটি লগ ও হটলাইন চালু রেখে কন্ট্রোল রুম থেকে তদারকি; অভিযোগ পেলে দ্রুত বদলি–ব্যাকআপ।
Dhaka Tribune — EC directs preparation of polling official panels by October 30 (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫): প্যানেল প্রস্তুতির নির্দেশনা ও সময়সীমা।
The Business Standard — BNP sees Jamaat preference in admin reshuffles; delegation to meet CEC (১৫ অক্টোবর ২০২৫): বিএনপির উদ্বেগ ও ইসিতে যাওয়ার পরিকল্পনা।
BSS / Daily Star / bdnews24 — প্যানেল প্রস্তুতি, ট্রেনিং ও ‘জুলাই সনদ’ পাঠানো/স্বাক্ষরসূচি বিষয়ে আপডেট (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |