অনলাইন ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে একটি দূরদর্শী 'ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা' তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া এক ঐতিহাসিক বক্তব্যে তিনি বিশ্বমঞ্চের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর এই আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন এবং অত্যন্ত বিনয় ও গভীর দায়িত্ববোধের সঙ্গে এই আসীন পদ গ্রহণ করছেন।
বক্তব্যের শুরুতেই এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে এই নির্বাচনি প্রচারণায় দিনরাত পরিশ্রম করা এবং সহযোগিতাকারী দেশের সাধারণ জনগণ, তার কূটনৈতিক টিম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
নির্বাচনে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের ভূয়সী প্রশংসা করে নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, কাকৌরিস একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রচার পরিচালনা করেছেন, যা বহুপাক্ষিক কূটনীতির ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বরাজনীতির রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ বর্তমানে এমন এক কঠিন সময় পার করছে যখন বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, তীব্র মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সংস্থাটির মূল কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এর পাশাপাশি চলমান বৈশ্বিক আর্থিক সংকটও জাতিসংঘের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
এসব জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে তার মেয়াদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় অভিজ্ঞতার কথা বিশ্বমঞ্চে স্মরণ করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে বাংলাদেশ দশকের পর দশক ধরে আন্তর্জাতিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী অবদান রেখে আসছে।
তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও কার্যকর ও সমন্বিত একটি আধুনিক শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান ও বৃদ্ধি করার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনে এখনো বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ঘাটতি ও স্থবিরতা রয়ে গেছে। আগামী ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো দ্রুত অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়ন সহজীকরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়িত্ব, বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি তার রোডম্যাপে গুরুত্বারোপ করেন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDC) টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ আন্তর্জাতিক সমস্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তিনি বিশেষ নজর রাখবেন বলে বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |