| বঙ্গাব্দ

অমরত্ব ও বার্ধক্যরোধে পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলারের গোপন বৈজ্ঞানিক প্রকল্প

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-05-2026 ইং
  • 8049 বার পঠিত
অমরত্ব ও বার্ধক্যরোধে পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলারের গোপন বৈজ্ঞানিক প্রকল্প
ছবির ক্যাপশন: ভ্লাদিমির লেনিন

মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কি আসলেই অমরত্ব অর্জন করা সম্ভব? বিগত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বেইজিংয়ে এক সামরিক কুচকাওয়াজ চলাকালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি ঘরোয়া আলাপচারিতা ফাঁস হয়ে যায়। সে সময় অনেকে এটিকে দুই বয়োবৃদ্ধ শাসকের খেয়ালি গল্প বলে উড়িয়ে দিলেও, অনুসন্ধানে জানা গেছে এটি কেবল সাধারণ আড্ডা ছিল না। পুতিন মূলত ক্রেমলিন-সমর্থিত দীর্ঘায়ু ও বার্ধক্যরোধ-সংক্রান্ত একটি উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের বিবরণ দিচ্ছিলেন, যা বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

সিলিকন ভ্যালির ধনকুবের জেফ বেজোস বা স্যাম অল্টম্যানদের মতো পুতিনও দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যরোধ গবেষণার প্রতি আগ্রহী। তবে রাশিয়ায় পুতিনের এই আকাঙ্ক্ষা এখন একটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যসূত্র অবলম্বনে তৈরি এই বিশেষ প্রতিবেদনে রাশিয়ার এই বহু বিলিয়ন ডলারের রহস্যময় প্রকল্পের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হলো।

১. ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস’ ও পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট

গত মাসে রাশিয়ার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, পুতিনের ২৬ বিলিয়ন (২ হাজার ৬০০ কোটি) ডলারের ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

  • বার্ধক্যরোধী জিন-থেরাপি: এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কোষের বার্ধক্য ধীরগতির করার জন্য একটি বিশেষ জিন-থেরাপি চিকিৎসা তৈরি করছেন। রাশিয়ার উপবিজ্ঞানমন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কির মতে, কোষের বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই ওষুধ অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল মাধ্যম হতে যাচ্ছে।

  • লক্ষ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ বিতর্ক: ২০২৪ সালে উন্মোচিত এই জাতীয় দীর্ঘায়ু প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো। তবে সমালোচকদের মতে, এই সংখ্যার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত রুশ সেনাদের আনুমানিক সংখ্যার এক অদ্ভুত মিল রয়েছে।

  • অভিনব কোল্ড থেরাপির ব্যবহার: এই প্রকল্পের আওতায় মাইনাস ১৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় কোল্ড থেরাপির মতো অভিনব ও চরম পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

২. রুশ বিজ্ঞানীদের প্রধান দুটি প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি

কৃত্রিম উপায়ে মানুষের প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ তৈরি ও বার্ধক্যরোধে রুশ রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞানীরা মূলত দুটি প্রধান প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন:

১. বায়োপ্রিন্টিং (Bioprinting): জীবন্ত টিস্যুর থ্রিডি (3D) প্রিন্ট করা। ইতোমধ্যে রুশ বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি ও মানুষের তরুণাস্থি বায়োপ্রিন্ট করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তির সাহায্যে মানবদেহের অঙ্গ প্রতিস্থাপন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২. জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন (Xenotransplantation): জিনগতভাবে মানুষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষ জাতের ছোট শূকরের শরীরের ভেতরে মানুষের অঙ্গ তৈরি করা।

 ৩. পুতিনের দীর্ঘায়ু অভিযানের নেপথ্যের নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা

ক্রেমলিনের প্রেস সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলো রাষ্ট্র দ্বারা সম্পূর্ণ সমর্থিত এবং বহু বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। তবে এই অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন পুতিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি:

  • মারিয়া ভোরোনৎসোভা (পুতিনের মেয়ে): তিনি একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমানে এই জিনপ্রযুক্তি কর্মসূচির সম্পূর্ণ তদারকি করছেন।

  • মিখাইল কোভালচুক (বিতর্কিত পদার্থবিদ): তিনি সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ‘কুর্চাতভ ইনস্টিটিউটের’ প্রধান। তাঁর মতে, অমরত্ব নিয়ে আলোচনা করা কঠিন হলেও, মানুষকে মেরামত করার সক্ষমতা সামনে নিঃসন্দেহে বাড়বে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সংশয় ও ভূ-রাজনৈতিক লড়াই

পশ্চিমের জেফ বেজোস বা পিটার থিয়েলের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার মতো ক্রেমলিনের এই প্রকল্পের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

রাশিয়া থেকে দেশত্যাগী বায়োপ্রিন্টিংয়ের অন্যতম পথিকৃৎ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ওস্ত্রভস্কি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা না থাকা মানে সেখানে বাস্তবসম্মত কোনো ফলাফল নেই। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার বিজ্ঞান বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় বিজ্ঞানীরা সম্ভবত পুতিনকে তহবিল বরাদ্দের লোভে তা-ই শোনাচ্ছেন, যা তিনি শুনতে চান।

অন্যদিকে, বিজ্ঞানী কোভালচুক এটিকে ভূরাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমা বিশ্ব বিজ্ঞানের মাধ্যমে এমন একধরনের ‘সেবক বা দাস মানব’ তৈরির চেষ্টা করছে, যাদের নিজস্ব চেতনা থাকবে না।

অমরত্ব ও দীর্ঘায়ু অর্জনে রুশ শাসকদের অতীত ব্যর্থতার ইতিহাস

বার্ধক্যকে জয় করার এই আকাঙ্ক্ষা রুশ বা সোভিয়েত শাসকদের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতার মুখে বারবার তাদের পরাজয় ঘটেছে:

অমরত্ব এবং দীর্ঘায়ু অর্জন করার বৈজ্ঞানিক ও ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা রুশ ইতিহাসের, বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের (USSR) সূচনালগ্নে এক উন্মাদনাপূর্ণ অধ্যায় ছিল [২.২.৪, ২.২.৭]। তৎকালীন স্বৈরশাসক ও কমিউনিস্ট নেতারা ধর্মীয় পরকালের ধারণাকে প্রতিস্থাপন করতে এবং নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে বিজ্ঞানের কাঁধে ভর করে অমরত্বের পেছনে ছুটেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় [২.২.৪, ২.৩.৩]। [1]
নিচে রুশ শাসকদের এই অমরত্ব ও দীর্ঘায়ু খোঁজার ব্যর্থ ইতিহাস এবং এর বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হলো:
১. লেনিনের মরণোত্তর 'অমরত্ব' এবং রক্ত পরিবর্তন পরীক্ষা
বলশেভিক বিপ্লবের পর, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম শীর্ষ নেতা ভ্লাদিমির লেনিন যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেকজান্ডার বোগদানভ (Alexander Bogdanov) এক অভিনব তত্ত্ব নিয়ে আসেন [
  • রক্তের মাধ্যমে যৌবন পুনরুদ্ধার: বোগদানভ দাবি করেছিলেন যে, কমবয়সী ও সুস্থ কমিউনিস্ট যুবকদের রক্ত বয়স্ক নেতাদের শরীরে প্রবেশ করালে বার্ধক্য দূর হবে এবং দীর্ঘায়ু অর্জন করা সম্ভব হবে
  • ব্যর্থতা ও মৃত্যু: ১৯২৬ সালে মস্কোতে সরকারি সহায়তায় বিশ্বের প্রথম 'ব্লাড ট্রান্সফিউশন ইনস্টিটিউট' গড়ে তোলা হয় বোগদানভ নিজের শরীরেই একাধিকবার রক্ত পরিবর্তন করেন এবং এর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় বলে দাবি করেন। তবে, ১৯২৮ সালে এক ছাত্রের সংক্রামিত রক্ত নিজের শরীরে নেওয়ার পর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বোগদানভ নিজেই মারা যান [২.২.৩], যা এই পরীক্ষাটির করুণ অবসান ঘটায়।
  • লেনিনের মমি: স্বয়ং লেনিন ১৯২৪ সালে মারা যাওয়ার পর [১.২.১], তার মরদেহকে কবর না দিয়ে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ (Mummified) করে মস্কোর রেড স্কয়ারে রেখে দেওয়া হয়। এটি ছিল এক ধরণের প্রতীকী ও কৃত্রিম অমরত্ব দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা।
২. স্ট্যালিনের 'অমর সৈনিক' ও দীর্ঘায়ু প্রকল্প
জোসেফ স্ট্যালিন তার শাসনামলে দীর্ঘায়ু অর্জন এবং একটি অপরাজেয় সমাজতান্ত্রিক মানব সমাজ তৈরিতে গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন [২.৩.৪, ২.৩.৮]। তিনি প্রকৃতির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিজ্ঞানীদের ওপর অদ্ভুত সব গবেষণার চাপ সৃষ্টি করেছিলেন:
  • মানুষ ও শিম্পাঞ্জির হাইব্রিড (Human-Ape Hybrid): বিজ্ঞানী ইলিয়া ইভানোভ (Ilya Ivanov) স্ট্যালিনের পরোক্ষ সমর্থনে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে এক নতুন 'সুপার সোলজার' বা অপরাজেয় মানব জাতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন [২.৩.১, ২.৩.৪]। এই কাল্পনিক প্রাণীদের দীর্ঘজীবী, ব্যথাহীন এবং অক্লান্ত পরিশ্রমী করার লক্ষ্য ছিল 
  • ব্যর্থতা ও নির্বাসন: আফ্রিকা এবং সোভিয়েত ল্যাবরেটরিতে বছরের পর বছর করা এই বীভৎস ও নৈতিকতাবিরোধী পরীক্ষা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় [২.৩.৩, ২.৩.৬]। কোনো শিম্পাঞ্জিই গর্ভবতী হয়নি [২.৩.৩]। অবশেষে ১৯৩০ সালে স্ট্যালিনের রোষানলে পড়ে ইভানোভকে কাজাখস্তানে নির্বাসিত করা হয় এবং সেখানেই তিনি মারা যান 
৩. বোগোমলেটসের 'দীর্ঘায়ু সিরাম' এবং স্ট্যালিনের হতাশা 
স্ট্যালিনের দীর্ঘায়ু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনীয় বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বোগোমলেটস (Alexander Bogomolets) একটি বিশেষ 'অ্যান্টি-রেটিকুলার সাইটোটক্সিক সিরাম' (Anti-reticular cytotoxic serum) আবিষ্কার করেন।
  • দাবি: এই সিরাম মানবদেহের সংযোজক কলা বা কানেক্টিভ টিস্যুকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারত। বোগোমলেটস দাবি করেছিলেন যে, মানুষ সহজেই ১৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং এই সিরাম তা নিশ্চিত করবে।
  • ব্যর্থতা: সোভিয়েত সরকার এই গবেষণায় বিপুল অর্থ ঢাললেও ১৯৪৬ সালে মাত্র ৬৫ বছর বয়সে বোগোমলেটস নিজেই মারা যান। তার মৃত্যুর খবর শুনে ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্ট্যালিন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, "ঐ ধূর্ত লোকটা সবাইকে প্রলোভন দেখালো যে সে ১৪০ বছর বাঁচবে, অথচ নিজে বাঁচার আগেই মরে গেল! ও আমাকে ঠকিয়েছে।" (স্ট্যালিন নিজেও পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান)। 
৪. লিসেঙ্কোইজম এবং জীববিজ্ঞানের বিপর্যয়
স্ট্যালিনের আমলে ট্রফিম লিসেঙ্কো (Trofim Lysenko) নামক এক কৃষিবিজ্ঞানীর অপবিজ্ঞান বা ছদ্ম-বিজ্ঞানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়
  • ভুল ধারণা: লিসেঙ্কো জিনতত্ত্ব বা জেনেটিক্সকে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে, পরিবেশের পরিবর্তনের মাধ্যমে জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে রূপান্তর করা সম্ভব [১.৩.৬]। নেতারা ভেবেছিলেন এই তত্ত্ব দিয়ে মানবদেহের বার্ধক্যকেও চিরতরে বদলে দেওয়া যাবে। 
  • পরিণতি: এই ভুল বিজ্ঞানের ওপর জোর দেওয়ার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রকৃত চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, যা দীর্ঘায়ু সংক্রান্ত গবেষণাকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেয় 
রুশ শাসকদের অমরত্ব ও দীর্ঘায়ু খোঁজার এই পুরো ইতিহাসটি ছিল মূলত মতাদর্শিক অহংকার, নৈতিকতাহীন পরীক্ষা এবং অপবিজ্ঞানের মিশ্রণ, যা প্রকৃতির নিয়মের কাছে বারবার পরাজিত হয়েছে 

আপনি কি বর্তমান রুশ প্রশাসন কিংবা ভ্লাদিমির পুতিনের আমলে দীর্ঘায়ু অর্জনে নেওয়া সাম্প্রতিক কোনো মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের বৈজ্ঞানিক প্রকল্প  সম্পর্কে জানতে চান?

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন সচেতন নাগরিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, ক্রেমলিনের এই ২৬ বিলিয়ন ডলারের ‘অমরত্ব প্রকল্প’ আসলে ভূ-রাজনীতি, ক্ষমতার লিপ্সা এবং বিজ্ঞানের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। ৭৩ বছর বয়সি পুতিন দীর্ঘদিন ধরে খালি গায়ে শিকার করে বা বরফশীতল পানিতে ডুব দিয়ে নিজের ‘চিরতরুণ’ ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, বর্তমানে উন্নত বিশ্বের তুলনায় রাশিয়ার গড় আয়ু অনেক কম (রুশ পুরুষদের গড় আয়ু মাত্র ৬৮ বছর, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৬ এবং পশ্চিম ইউরোপে ৮০ বছরের বেশি)। ইউক্রেন যুদ্ধে যখন হাজার হাজার তরুণ রুশ সেনা প্রাণ হারাচ্ছে, তখন ক্রেমলিনের জন্য রাশিয়ার সাধারণ নির্বাচন বা ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা যতটা সহজ, জীববিজ্ঞানের অমোঘ নিয়ম অর্থাৎ মৃত্যুকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভবত ততটাই অসম্ভব। এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির চেয়ে পুতিনের ব্যক্তিগত অমরত্বের একটি অলীক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা মাত্র।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency