| বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অষ্টম দিনের সাক্ষ্য আজ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-09-2025 ইং
  • 5579531 বার পঠিত
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অষ্টম দিনের সাক্ষ্য আজ
ছবির ক্যাপশন: আবু সাঈদ হত্যা মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অষ্টম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আজ সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ (আইসিটি–২)–এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিক অষ্টম দিন নির্ধারিত। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

মামলার প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতা (সারসংক্ষেপ)

  • ঘটনা: ১৬ জুলাই ২০২৪, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর–সংলগ্ন পার্কমোড় এলাকায় পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন—যা কোটা-বিরোধী আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে অনুঘটকের ভূমিকা রাখে।  

  • অভিযোগ গ্রহণ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ৩০ জুন ২০২৫ অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৬ জন পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিটি–২। 

  • চার্জগঠন: ৬ আগস্ট ২০২৫–এ বেরোবির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন; ২৪ জন পলাতক, ৬ জন হাজতবাসী আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলমান। 

  • বিচার শুরু: ২৭–২৮ আগস্ট ২০২৫–এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়; সেদিন আদালতে নিহতের বাবা মকবুল হোসেন জবানবন্দি দেন। 

গত কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য

  • চক্ষুদর্শী ছাত্র সিয়াম আহসান আয়ান (২১–২২ সেপ্টেম্বর): তিনি জানান, রংপুরে ১৬ জুলাই ২০২৪–এ প্রতিবাদের সময় আবু সাঈদ হাত দু’টি প্রসারিত করে দাঁড়ালে পুলিশ গুলি চালায়; তিনিই আহত সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। 

  • এসআই মো. তারিকুল ইসলাম (জুলাই–সেপ্টেম্বর): মামলার তদন্তের ধাপে তার সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ হয়; মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে তিনি ইনকোয়েস্ট/মেডিক্যাল নথি নিয়ে চাপের কথা উল্লেখ করেন বলে জানায় কয়েকটি পত্রিকা। 

  • বাবা মকবুল হোসেন (২৮ আগস্ট): রাতের আঁধারে দাফনের চাপ ও মাথার পেছনে গুলিচিহ্ন দেখার অভিজ্ঞতা আদালতে বর্ণনা করেন; আদালতে ভিডিও-এভিডেন্সও স্ক্রিনে দেখানো হয়। 

হাজতবাসী ও পলাতক আসামি

বর্তমানে হাজতবাসী ৬ আসামি—
এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়কর্মী রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ (আপেল)—ডকে দাঁড়িয়ে চার্জশিট পড়া হলে সবাই নির্দোষ দাবী করেন। বাকি ২৪ আসামি পলাতক, যাদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দিয়ে অনুপস্থিতিতে বিচার চলছে। 

আইনি অবস্থা ও পরবর্তী ধাপ

  • মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes against Humanity)–এর ধারায় চলমান; বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ–প্রশাসনের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা–কর্মচারীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

  • রাষ্ট্রনিযুক্ত ‘স্টেট ডিফেন্স’: পলাতক আসামিদের জন্য ২২ জুলাই রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের পর বিচার অনুপস্থিতিতেই এগোচ্ছে। 

  • আজকের (২৯ সেপ্টেম্বর) ধার্যে প্রসিকিউশনের পরবর্তী সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা নেওয়ার কথা রয়েছে—পূর্বতন তারিখগুলোয় যে ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, আদালত সে অনুযায়ী ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ ক্যালেন্ডারে শুনানি চালিয়ে যাচ্ছে। (প্রেক্ষাপট: ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা সাত দিন সাক্ষ্য/জেরা)। 

কেন এই মামলা ঐতিহাসিক

স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে ‘জুলাই–আগস্ট ২০২৪’–এর গণআন্দোলনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গুলি–নির্যাতন–সংক্রান্ত অপরাধকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার–বিন্যাস করা—বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত। আদালত, প্রসিকিউশন ও তদন্ত–সংস্থার বিবৃতিতে আবু সাঈদ–কে এ আন্দোলনের প্রতীকী সাহস–রূপে বর্ণনা করা হয়েছে; চক্ষুদর্শীদের একাধিক ভিডিও–প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত। 


সময়রেখা (কী তারিখ, কী হলো)

  • ৩০ জুন ২০২৫: ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গৃহীত; ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। 

  • ৬ আগস্ট ২০২৫: ৩০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন; ২৪ পলাতক, ৬ জন হাজতে। 

  • ২৭–২৮ আগস্ট ২০২৫: ট্রায়াল শুরু; প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট; নিহতের পিতার জবানবন্দি। 

  • ২১–২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫: চক্ষুদর্শী আয়ন–এর জবানবন্দি ও জেরা—‘হাত প্রসারিত করে দাঁড়ানো আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে’—বর্ণনা। 

  • আজ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫: অষ্টম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ নির্ধারিত—আইসিটি–২, বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী। 


সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ (সংক্ষেপ)

এই মামলার গুরুত্ব তিন স্তরে—(১) নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি: মাঠপর্যায়ের অপারেশনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে আইনগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; (২) প্রতিষ্ঠানগত দায়: বিশ্ববিদ্যালয়/প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকাও আদালতের স্ক্রুটিনিতে; (৩) নজির: স্বাধীনতার পর গণআন্দোলন–সংক্রান্ত সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার–বিভাগীয়ভাবে নথিভুক্ত করার দৃষ্টান্ত—যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ, পুলিশিং স্ট্যান্ডার্ড ও ক্যাম্পাস–নিরাপত্তায় রেফারেন্স পয়েন্ট হবে। (উৎস: চার্জ, ওপেনিং স্টেটমেন্ট, সাক্ষ্য ও আদালতের আদেশসমূহ)


সূত্র (৩টি)

১) The Daily StarKilling of Abu Sayed: ICT-2 frames charges against 30 accused (০৭ আগস্ট ২০২৫); Abu Sayed murder: Father watches son’s final moments as trial begins (২৮ আগস্ট ২০২৫)। 
২) The Business Standard (TBS)Formal charges accepted; arrest warrants against 26 (৩০ জুন ২০২৫) এবং ICT orders start of trial; schedule & custody status। 
৩) New Age / Prothom Alo (EN)ICT frames charges; six detained named; eyewitness Ayan testifies in detail; Formal trial begins; 24 absconding including former VC Hasibur Rashid। 

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency