আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৩ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুুলবুল আহমেদ
প্যারিস: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় চরম শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ফরাসি নাগরিক ও গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার অন্যতম কর্মী মেরিয়েম হাদজাল। সম্প্রতি ইসরায়েলি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে ফ্রান্সে ফিরে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।
একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় হাদজাল তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমাকে সেখানে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমরা ওই স্থানে পৌঁছানোর পরপরই আমাদের শরীর থেকে গরম কাপড় খুলে নেওয়া হয়। এরপর তারা আমাদের একে একে একটি কালো কনটেইনারের ভেতরে প্রবেশ করতে বলে।”
তিনি ঘটনার ভয়াবহতা উল্লেখ করে আরও বলেন:
“ওই কনটেইনারের ভেতরে তিনজন ইসরায়েলি সৈন্য ছিল। আর একজন সেনা বিবস্ত্র অবস্থায় মাটিতে শুয়ে ছিল। কনটেইনারে ঢোকার পর তাদের মধ্যে একজন আমার শরীরে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করতে শুরু করে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার মাথায় অত্যন্ত জোরে আঘাত করা হয়।”
ফরাসি এই নারী অধিকারকর্মীর এমন ভয়াবহ অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে।
একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওর সূত্রে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর চালানো এই অমানবিক আচরণ ও নির্যাতন সশরীরে দেখতে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিতর্কিত মন্ত্রী ইতেমার বেন-গভির নিজেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ফ্লোটিলা আয়োজকদের সূত্র অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে রওনা হওয়া এই ফ্লোটিলায় বা নৌবহরে ৫০টিরও বেশি নৌযান ছিল। এই বিশাল বহরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী, চিকিৎসক, বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম, শিশুখাদ্য এবং অন্যান্য জরুরি মানবিক সহায়তা সামগ্রী বহন করা হচ্ছিল।
নৌবহরটি আন্তর্জাতিক জলসীমা হয়ে গাজার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সাইপ্রাসের নিকটবর্তী সমুদ্রসীমায় গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি নৌবাহিনী সেগুলোকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে এবং অতর্কিত কমান্ডো অভিযান চালায়।
ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানান, এই মানবিক মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিনের অন্যায় ইসরায়েলি সমুদ্র অবরোধ ভেঙে ফেলা এবং গাজায় চলমান নজিরবিহীন মানবিক সংকটের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
অভিযান শেষে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফ্লোটিলার সবকটি নৌযান জব্দ করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সমস্ত যাত্রী ও অধিকারকর্মীদের আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের জোরপূর্বক ইসরায়েলি ভূখণ্ডে স্থানান্তর করা হয়।
মেরিয়েম হাদজাল ছাড়াও ইতিমধ্যে মুক্ত পাওয়া আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে আটক থাকা অবস্থায় তাদের চরম অমানবিক ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারা সবাই পদ্ধতিগত শারীরিক নির্যাতন, আইনি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং কারাগারে দুর্ব্যবহারের অভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।
ইউরোপীয় মানবাধিকার নেটওয়ার্ক (প্যারিস উইং): ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর ফরাসি নাগরিক মেরিয়েম হাদজালের প্রেস ব্রিফিং ও অফিশিয়াল ভিডিও স্টেটমেন্ট।
আন্তর্জাতিক সুমুদ ফ্লোটিলা মিডিয়া সেল: সাইপ্রাসের অদূরে মঙ্গলবার ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অভিযান ও কর্মীদের আটকের ঘটনার আন্তর্জাতিক বিবরণী।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |