| বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সাথে আপস করলে বিএনপিকেও ছাড় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-05-2026 ইং
  • 41646 বার পঠিত
আওয়ামী লীগের সাথে আপস করলে বিএনপিকেও ছাড় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন হলে প্রথম হামলা হবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রতিবেদক: বিডিএস булবুল আহমেদ

আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং শেখ হাসিনা ভারত থেকে ‘উঁকিঝুঁকি’ মারছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রথম আঘাতটি আসবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কার্ড নীতি ও ‘লাল কার্ড’–এর হুঁশিয়ারি

সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ ও কার্ড প্রথার তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন:

  • উন্নয়ন ও কার্ড: "আমার জন্মস্থান চাঁদপুর কিংবা রাজশাহী—কোথাও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। আমরা কেবল পকেটে নিয়ে ঘোরার জন্য কতগুলো কার্ড পেয়েছি।"

  • লাল কার্ডের আল্টিমেটাম: তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কার্ড দেওয়ার পর যদি সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা না আসে, তবে জনগণ সরকারকে ‘লাল কার্ড’ ধরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় করবে।

  • সংস্কারের দাবি: জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত সরকারকে দ্রুত রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার না হলে সরকারের গদি রক্ষা করা কঠিন হবে।

বিএনপিকে কড়া বার্তা ও ‘কম্প্রোমাইজ’ না করার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে এনসিপি নেতা ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন:

  • আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ধরণের আপস (Compromise) করা যাবে না। যদি বিএনপি আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে, তবে জনগণ একই পাল্লায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে মাপবে।

  • তিনি অভিযোগ করেন, মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের চেতনা ও 'মার্কা' বিএনপি নিজের করে নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে তারা এখন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করছে।

পানি সংকট ও খাল খননের সমালোচনা

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসে রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানিশূন্যতা এবং সরকারের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, নদীতে পানি না রেখে খাল খনন করা এক ধরণের ‘উল্টো সায়েন্স’ বা বিজ্ঞানহীনতা। ভারতের সামনে ‘নমো নমো’ না করে আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য প্রয়োজনে আবারও ভারতের দিকে লংমার্চ করার জন্য রাজশাহীবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


উত্তরবঙ্গের নদী রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বিপাক্ষিক সমীকরণ: ১৯০০ থেকে ২০২৬

রাজশাহীর মাটিতে দাঁড়িয়ে এনসিপি নেতার এই বক্তব্য ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও প্রমত্তা পদ্মা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে রাজশাহী অঞ্চলের পদ্মা নদী ছিল বিশাল ও প্রমত্তা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কিংবা ব্রিটিশ আমলজুড়ে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থা পদ্মার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ১৯০০ সালের সেই রূপালী পদ্মার রূপ ২০২৬ সালে এসে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হওয়া এ অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

  • মওলানা ভাসানীর লংমার্চ (১৯৭৬): ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে যে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ হয়েছিল, তা ছিল ১৯০০ সালের পর থেকে এ অঞ্চলের প্রথম বড় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিরোধ। ২০২৬ সালের এই মে মাসে সেই আন্দোলনের ৪৯ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে নদী রক্ষার দাবিটি আবারও নতুন করে প্রাণ পেয়েছে।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন ফ্রন্ট: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাজপথে ছিল, ২০২৬ সালে এসে তাদের মধ্যে এক ধরণের কৌশলগত দূরত্ব ও প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এনসিপি নেতার বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ২০২৪-এর যৌথ ফ্রন্টটি ২০২৬ সালের মে মাসে এসে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য ও সমালোচনা করার অবস্থান স্পষ্ট করছে।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের প্রথাগত ঔপনিবেশিক লড়াই থেকে ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বয়ান—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে জনগণের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক অধিকার। ২০২৬ সালের তীব্র গরমে পদ্মা নদীর পানিশূন্যতা এবং তা নিয়ে নতুন ও পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বাকযুদ্ধ উত্তরবঙ্গের রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার ভারসাম্য যখনই নষ্ট হয়, তখনই নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে। ১৯০০ সালের সেই নীলকর ও মহাজনদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে ২০২৬ সালের এই পানির অধিকার ও রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের লড়াই—বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই প্রতিবাদী। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং ভারতের সাথে নদী কূটনীতিতে দৃশ্যমান সাফল্য এবং অভ্যন্তরীণভাবে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।


সূত্র: ১. রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যোগদান অনুষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রধান অতিথির ভাষণ (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীতে উত্তরবঙ্গের নদী শুকিয়ে যাওয়ার ইতিহাস ও রাজনৈতিক আন্দোলন (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency