প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হলেও দেশটির সাধারণ মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ঘটনাগুলোকে ‘সাজানো’ বা ‘নকল’ বলে মনে করছেন। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) প্রকাশিত এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন আমেরিকান নাগরিকের মধ্যে একজন মনে করেন গত মাসে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক।
নিউজগার্ড নামক একটি অনলাইন সংবাদ নির্ভরতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে মার্কিন জনমতের এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে:
দলীয় বিভাজন: প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডেমোক্র্যাট সমর্থক এই হামলাকে সাজানো বলে বিশ্বাস করেন। বিপরীতে, রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এই হার অনেক কম—প্রতি আটজনে একজন।
প্রজন্মগত পার্থক্য: ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সংশয় সবচেয়ে বেশি। বয়োজ্যেষ্ঠদের তুলনায় তরুণরা এই ঘটনাকে কৃত্রিম বা নাটকীয় মনে করার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে রয়েছেন।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রভাব: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনস্পিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করছে।
গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারের সেই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেও, তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিই এখন মার্কিন নাগরিকদের কাছে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা এবং তা নিয়ে জনমতের এই অবিশ্বাস ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতির এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক অধ্যায়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও রাজনৈতিক হত্যা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এ অঞ্চলেও অনেক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তখন তথ্যের প্রবাহ ছিল ধীর, ফলে মানুষ গুজবে কান দিত বেশি। কিন্তু ১৯০০ সালের সেই সময়েও কোনো নেতার ওপর হামলা হলে তা নিয়ে জনমতের বিভাজন রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলত।
স্বাধীনতা ও আদর্শিক লড়াই (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার মূলে ছিল সত্য ও ন্যায়ের লড়াই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ও তাঁদের নিয়ে জনমতের আবেগ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ২০২৪-এর বৈশ্বিক প্রভাব: ১৯৯০ সালের পর ইন্টারনেটের প্রসারে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময়ও আমরা দেখেছি কীভাবে ‘ভুল তথ্য’ (Misinformation) ও ‘সঠিক তথ্য’ (Information) যুদ্ধের ময়দান তৈরি করেছিল। ২০২৬ সালের বর্তমান বিশ্বে এআই (AI) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিক্য ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোকে আরও সহজ করে দিয়েছে।
২০২৬-এর বর্তমান চ্যালেঞ্জ: ১৯০০ সালের পরাধীন আমলের সীমিত তথ্য থেকে ২০২৬ সালের এই তথ্যের প্রাচুর্যের যুগে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিপফেক’ এবং ‘সাজানো প্রচার’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে প্রতি ৪ জনে ১ জনের এই অবিশ্বাস প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মানব সমাজ প্রযুক্তিতে এগোলেও পারস্পরিক বিশ্বাস ও রাজনৈতিক সহনশীলতায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যখন কোনো সমাজে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন মানুষের কাছে ‘সত্য’ গৌণ হয়ে পড়ে এবং ‘আবেগ’ বা ‘দলীয় অন্ধত্ব’ মুখ্য হয়। ১৯০০ সালের সেই রাজবংশীয় বা ঔপনিবেশিক আমলের লড়াই থেকে ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগের স্নায়ুযুদ্ধ—সবক্ষেত্রেই গুজব দমনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তথ্যের বিকল্প নেই। মার্কিন প্রশাসনের জন্য এই জনমত একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এটি কেবল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং দেশটির বিচার ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।
সূত্র: ১. ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউজগার্ড প্রকাশিত জনমত জরিপ (১১ মে, ২০২৬)। ২. হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনার সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রতিবেদন। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক জনমতের ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |