| বঙ্গাব্দ

মে মাসে বজ্রপাতের মরণকামড়: বছরে ৩৮% প্রাণহানি মার্চ-মে মাসেই | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-05-2026 ইং
  • 15750 বার পঠিত
মে মাসে বজ্রপাতের মরণকামড়: বছরে ৩৮% প্রাণহানি মার্চ-মে মাসেই | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: মে মাসে বজ্রপাতের মরণকামড়: বছরে ৩৮% প্রাণহানি মার্চ-মে মাসেই | ২০২৬

মে মাসে বজ্রপাতের মরণকামড়: প্রাণহানি কমাতে ‘আর্লি অ্যাকশন’ ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন একটি ভয়াবহ জাতীয় দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানের তথ্যমতে, বছরের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৩৮ শতাংশই ঘটে মার্চ থেকে মে মাসে। এর মধ্যে মে মাসের বজ্রপাতগুলো সবচেয়ে তীব্র ও ভয়ংকর রূপ নেয়, যা জানমালের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এসব উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে।

১. মে মাস: কেন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?

আবহাওয়াবিদদের মতে, মে মাসের বজ্রঝড়গুলো মূলত তীব্র কালবৈশাখীর রূপ নেয়। এ প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “মে মাসে ঘটা বজ্রপাতগুলোর তাণ্ডব ও ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। যখনই বজ্রধ্বনি শোনা যাবে, মুহূর্ত বিলম্ব না করে নিরাপদ আশ্রয়ে বা ঘরের ভেতরে চলে আসতে হবে।”

২. প্রধান শিকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মোঃ গোলাম মোস্তাফা জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বেড়েছে। বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান কৃষকরা, এরপরই রয়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও নারীরা। তিনি বলেন, “বজ্রপাতে মৃত্যু কমিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থাকে একত্রে কাজ করতে হবে।”

৩. পূর্বাভাস থাকলেও কেন মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম এক গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আবহাওয়া অধিদপ্তর পাঁচ দিনের নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে পারলেও, সেই অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে ‘আর্লি অ্যাকশন’ বা দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রাণহানি ঠেকানো যাচ্ছে না।” প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে মাঠ পর্যায়ের সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করতে পারলে এই মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

৪. বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও সচেতনতা

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ প্রদান করেন:

  • দ্রুত আশ্রয়: বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা মাঠ বা জলাশয় ছেড়ে দ্রুত ঘরে ফিরতে হবে।

  • সমন্বয়: আবহাওয়া অধিদপ্তর, ব্র্যাক, ইউএনডিপি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান আরও দ্রুত করতে হবে।

  • প্রযুক্তি: হাওড় ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাত প্রতিরোধক দণ্ড (Lightning Arrester) স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়।


বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ

২০২৬ সালের জলবায়ু পরিস্থিতিতে বজ্রপাত মোকাবিলায় কেবল সচেতনতা যথেষ্ট নয়, বরং কারিগরি সক্ষমতা এবং স্থানীয় মানুষের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের এই সময়ে আমাদের কৃষক ও যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে বজ্রপাত ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।


তথ্যসূত্র: ১. জাতীয় কর্মশালা: ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস’, ৪ মে ২০২৬। ২. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) ও ব্র্যাক (BRAC)। ৩. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (MoDMR) ব্রিফিং।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন


বিশেষ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার

ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency