নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬
ঢাকা: আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় হিসাবের গরমিল বা তথ্যের ভুল হওয়া নতুন কিছু নয়। অনেক সময় অসাবধানতাবশত বা জটিল হিসাবের কারণে সম্পদের বিবরণীতে অসঙ্গতি থেকে যায়। তবে রিটার্নে ভুল হলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই; দেশের প্রচলিত আয়কর আইনে এই ভুল সংশোধনের সুনির্দিষ্ট সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এনবিআর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও সময়সীমা মেনে এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতা তার দাখিলকৃত রিটার্নের তিন ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন:
প্রদর্শিত আয়: আয়ের হিসেবে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।
কর অব্যাহতি বা ট্যাক্স ক্রেডিট: যদি কেউ সঠিকভাবে কর অব্যাহতি বা বিনিয়োগ জনিত ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করতে ভুল করেন।
যৌক্তিক ভুল: অন্য যেকোনো গাণিতিক বা তথ্যগত যৌক্তিক ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, কোনো করদাতার রিটার্ন যদি এনবিআরের নিরীক্ষা বা অডিটের (Audit) জন্য নির্বাচিত হয়, তবে তিনি আর সংশোধনের সুযোগ পাবেন না। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই তালিকায় থাকা করদাতারা আর কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবেন না।
রিটার্ন সংশোধনের ক্ষেত্রে করদাতাদের কয়েকটি কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে:
১৮০ দিনের সময়সীমা: মূল রিটার্ন দাখিলের তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন জমা দিতে হবে। এই সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
একবারই সুযোগ: একই অর্থবছরে একবার সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার পর দ্বিতীয়বার আর সংশোধনের সুযোগ নেই।
জরিমানা ও অতিরিক্ত কর: সংশোধনের ফলে যদি করের পরিমাণ বেড়ে যায়, তবে অতিরিক্ত করের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে।
করদাতাদের হয়রানি কমাতে এনবিআর এখন অনলাইনেই সংশোধিত রিটার্ন জমার ব্যবস্থা রেখেছে। এনবিআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে 'সংশোধন' (Revision) অপশন ব্যবহার করে এটি করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, সংশোধনের জন্য অনলাইনে লগ-ইন করলে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
এনবিআরের তথ্যমতে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। যদিও দেশে মোট টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখের কাছাকাছি। বিপুল সংখ্যক করদাতার এই রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সংশোধনের এই আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার: রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, রিটার্ন দাখিলের পর কপিটি পুনরায় যাচাই করা উচিত। যদি কোনো অসংগতি ধরা পড়ে, তবে অডিট বা ১৮০ দিন পার হওয়ার আগেই দ্রুত সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা বা বড় অংকের জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্দেশিকা ২০২৬ এবং আয়কর আইন পরিপত্র। প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক
বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |