নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন ও লন্ডন: ইরান সীমান্তে চলমান সামরিক উত্তেজনার পারদ নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফিং দেওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জ্বালানি তেলের বাজারে এমন ঊর্ধ্বগতি আর দেখা যায়নি। ৩০ এপ্রিল দিনের শুরুতে তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছালেও দিনের শেষভাগে তা কিছুটা কমে ১১৪ ডলারে স্থিতিশীল হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন-ইরান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তাই এই অস্থিরতার মূল কারণ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios) জানিয়েছে, ইরানের ওপর ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার একটি নীল নকশা তৈরি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বর্তমান আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে সেখানে পদাতিক সেনা পাঠানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টেবিলে রয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই সংকটের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওমান উপকূলে তেলের ট্যাংকারে হামলার পর থেকেই এই জলপথটি কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিপিং ইন্স্যুরেন্সের খরচ বৃদ্ধি এবং সরাসরি অবরোধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামার উপক্রম হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ (Operation Economic Fury) এবং নৌ-অবরোধকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি একে ‘জিনিয়াস’ পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও তেলের দামের এই লাফানো প্রভাব পড়ছে সাধারণ মার্কিন ও এশীয় গ্রাহকদের ওপর। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল জ্বালানি নয়, বরং খাদ্যপণ্যের দাম এবং বিমান ভাড়াও আকাশচুম্বী হবে। ইরানের ওপর মার্কিন সেন্টকমের এই নতুন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হলে এশিয়াসহ বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতে আরও বড় ধরনের দরপতন হতে পারে। ২০৩০ সালের আগ পর্যন্ত এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস রিপোর্ট (৩০ এপ্রিল), রয়টার্স এনার্জি ডেক্স এবং সেন্টকম ব্রিফিং আর্কাইভ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক
বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |