আন্তর্জাতিক ডেস্ক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য
উৎস: পালসবাংলাদেশ (আল-মায়েদিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা)
ইসরাইলি বাহিনীকে লেবাননের ভূখণ্ড ছাড়ার চরম হুশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাশেম। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক বিশেষ ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, হিজবুল্লাহ কখনোই পরাজয় মেনে নেবে না এবং লেবাননের এক ইঞ্চি জমিও দখলদারদের হাতে থাকতে দেবে না।
সমর্থকদের উদ্দেশে নাইম কাশেম বলেন, “যত খুশি হুমকি দেওয়া হোক—আমরা পিছু হটব না, নত হব না, পরাজিতও হব না। দখলকৃত আমাদের ভূমির এক ইঞ্চিও তারা দখলে রাখতে পারবে না।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা শিগগিরই তাদের নিজ ভূমিতে ফিরবে এবং সম্মিলিতভাবে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিনের তথ্য অনুযায়ী, সংকট নিরসনে নাইম কাশেম পাঁচটি প্রধান শর্ত তুলে ধরেছেন:
স্থল, নৌ ও আকাশপথে ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার।
আটক ব্যক্তিদের মুক্তি প্রদান।
বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।
জরুরি ভিত্তিতে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা।
লেবানন কর্তৃপক্ষের সরাসরি আলোচনার প্রচেষ্টাকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি পরোক্ষ আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। নাইম কাশেম দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, “আমরা আমাদের অস্ত্র ছাড়ব না।” তিনি মনে করেন, ইসরাইলি দখলদারিত্ব রুখতে হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তিই একমাত্র প্রতিরক্ষা প্রাচীর।
নাইম কাশেম যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তেহরানের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে লেবানন কর্তৃপক্ষের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তারা ইসরাইলকে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৫২১ জন ছাড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৭,৮০৪ জন। হিজবুল্লাহ প্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
| বিষয় | হিজবুল্লাহর অবস্থান |
| অস্ত্র সমর্পণ | কঠোরভাবে নাকচ; প্রতিরক্ষা জোরদারই লক্ষ্য। |
| ভূখণ্ড | এক ইঞ্চি জমিও ইসরাইলের অধীনে থাকবে না। |
| আলোচনা | সরাসরি আলোচনার বদলে পরোক্ষ আলোচনার দাবি। |
| ঐক্য | আমাল মুভমেন্টসহ সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের আহ্বান। |
নাইম কাশেমের এই ভাষণটি প্রমাণ করে যে, হিজবুল্লাহ দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। ২ মার্চের পর থেকে চলা ভয়াবহ রক্তপাতের পরেও তাঁদের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরাইল যদি সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানো প্রায় অসম্ভব। এই সংঘাত কেবল লেবাননের নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকে পাল্টে দিচ্ছে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: হিজবুল্লাহর এই কঠোর অবস্থান কি ইসরাইলকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করবে নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |