| বঙ্গাব্দ

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মির্জা ফখরুল: রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া সুরক্ষা সম্ভব নয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-08-2025 ইং
  • 3374241 বার পঠিত
জাতীয় প্রেস ক্লাবে মির্জা ফখরুল: রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া সুরক্ষা সম্ভব নয়
ছবির ক্যাপশন: জাতীয় প্রেস ক্লাবে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া সুরক্ষা সম্ভব নয়: হতাশার কথা জানালেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমি আশাবাদী, হতাশ হতে চাই না। তবে তারপরও হতাশ হতে হচ্ছে।”

শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সভার আয়োজন করে বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের সংগঠন অর্পণ আলোক সংঘ

হতাশার কারণ ব্যাখ্যা

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি যখন একটা প্রগতিবাদী সমাজ দেখতে চাই, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা চাই, বৈষম্য কমাতে চাই—তখন দেখি উল্টোভাবে চিন্তাগুলোকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তখন হতাশা আসবেই।”

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনার তর্ক-বিতর্ক অনেক সময় হতাশা তৈরি করছে। তবে তার মতে, গণতন্ত্রে এসব বিতর্ক থাকবেই, শুধু তা যেন হতাশার জায়গায় না পৌঁছে যায়।

সামাজিক সুরক্ষা ও রাষ্ট্র কাঠামো

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বা জোড়াতালি দিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। এর জন্য রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি—সবকিছু রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। জনগণ যাদের নির্বাচিত করছে, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করছে—এটি পুরো সিস্টেমকে প্রভাবিত করছে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “দেড় বছরেই সেই ক্ষতি পূরণ হবে—এমনটা ভাবা যাবে না।”

রাজনৈতিক সংকটের পেছনে ভয়াবহ দুর্নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাজ দখল করে নিয়েছেন। আইন প্রণয়নের কাজ বাদ দিয়ে তারা উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা, ভবন বা গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে যুক্ত হয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রের সিস্টেম হয়ে গেছে দখলকৃত।

ঘুষ সংস্কৃতির অভিযোগ

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমলারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায়িত্বরত উপদেষ্টারাও অসহায় হয়ে পড়ছেন। একজন মফস্বলের শিক্ষককে সমস্যা সমাধানের জন্য ঢাকায় আসতে হয়। কারণ ঘুষটা আসে সেন্ট্রালের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ হয় ঘুষ দিয়ে, স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ হয় ঘুষ দিয়ে, নার্সদের নিয়োগ হয় ঘুষ দিয়ে।”

তার মতে, এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী সিস্টেমকেই সংস্কার করতে হবে।

বিশ্লেষণ

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—তিনি আশাবাদী থাকতে চান, তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে চলমান দুর্নীতি ও বৈষম্য তাকে হতাশ করছে। রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না—এমন অবস্থান বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।


সূত্র

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency