| বঙ্গাব্দ

আমি অসৎ হলে আমাকেও ধরুন: সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের সাহসী বক্তব্য | পালসবাংলাদেশ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-04-2026 ইং
  • 55808 বার পঠিত
আমি অসৎ হলে আমাকেও ধরুন: সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের সাহসী বক্তব্য | পালসবাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের সাহসী বক্তব্য

আমি অসৎ হলে আমাকেও ছাড় দেবেন না’: সংসদে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের

বিশেষ প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: জাতীয় রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার ‘বাকযুদ্ধে’ টালমাটাল, ঠিক তখনই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন ও সাহসী বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো আপস নয়; এমনকি অপরাধী যদি তিনি নিজে হন, তবে তাকেও যেন ছাড় দেওয়া না হয়।

১. অসৎ লোকদের ‘এক্সপোজ’ করার আহ্বান

গত বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের আলোচনায় (বিধি-৬৮) অংশ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কিছু অসৎ লোক সব সময় সুযোগ নেয়। সেই লোক আমি হলে আমাকেও ছাড় দেবেন না। বরং জাতির স্বার্থে তাদের আরও বেশি করে ধরুন এবং এক্সপোজ করুন। যারা অসৎ, তারা কোনো দলের হতে পারে না; তারা কেবল দলের নাম ভাঙিয়ে সুযোগ নেয়।”

২. সুবিধাবাদীদের সতর্কবার্তা

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সংকটময় মুহূর্তে কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। তিনি এদেরকে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “দল বিপদে পড়লে এরাই সবার আগে পালিয়ে যায়। তাই এই ধরনের সুযোগসন্ধানীদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না।” তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমান প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের প্রতি একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন।

৩. বক্তব্যের দায়বদ্ধতা ও আস্থার প্রশ্ন

সংসদে দেওয়া বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংসদের প্রতিটি কথা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আমাদের প্রতিটি বক্তব্য হতে হবে তথ্যনির্ভর ও সত্য। আজ এক কথা আর কাল অন্য কথা বললে জনগণ আমাদের ওপর আস্থা হারাবে।”

৪. প্রেক্ষাপট: ফখরুলের ‘নির্মূল’ বার্তার বিপরীতে শফিকুরের অবস্থান

উল্লেখ্য যে, আজ সকালেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ‘রাজনৈতিকভাবে নির্মূল’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ফখরুলের সেই আক্রমণাত্মক মেজাজের বিপরীতে সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের এই সংযত অথচ নৈতিক অবস্থান রাজনীতির মাঠে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। একদিকে বিএনপি যখন জামায়াতকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং তত্ত্বের’ জন্য দায়ী করছে, অন্যদিকে জামায়াত আমির নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার রাজনীতির কথা বলে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।


বিশ্লেষণ ও তথ্যসূত্র (Sources & Insights):

  • সংসদীয় রেকর্ড: জাতীয় সংসদের বিধি-৬৮ অনুযায়ী জরুরি আলোচনা (২২ এপ্রিল ২০২৬)।

  • রাজনৈতিক বিবর্তন: ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াতের মিত্রতা থেকে প্রকাশ্য বিরোধের চিত্র।

  • বিগত সংবাদ: জামায়াত আমিরের বিভিন্ন জেলা সম্মেলনে দেওয়া নৈতিকতা বিষয়ক বক্তব্যসমূহ।

  • গুগল নিউজ ট্রেন্ড: ২০২৬ সালের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘নির্বাচনী স্বচ্ছতা’ ও ‘দলীয়করণ’ সংক্রান্ত জনমত।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি কৌশলী রাজনৈতিক চাল। নিজেকে বিচারের মুখোমুখি করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মির্জা ফখরুলের ‘নির্মূল’ হুমকির বিপরীতে নিজেকে ‘সৎ ও স্বচ্ছ’ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি ২০২৬ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইয়ে নৈতিক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চাইছেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency