প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়/রাজনীতি
আসন্ন মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন নতুন মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই সমাবেশকে কেবল দিবস পালন নয়, বরং বড় ধরনের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, ১ মে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ শুরু হবে। সমাবেশে শ্রমিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সংহত করার আহ্বান জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপিসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এই সমাবেশের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সাম্প্রতিক শীতল সম্পর্ক। সম্প্রতি জামায়াত আমির এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, বিএনপি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। এর প্রতিবাদে মির্জা ফখরুল আজ কড়া ভাষায় বলেন, “বিশ্বের সব দেশ এবং পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও অবাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। জনপ্রিয়তার মাধ্যমেই বিএনপি ২১৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে।”
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ: ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও জামায়াত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেও, ২০২৬-এর নির্বাচনের পর থেকেই আসন ভাগাভাগি ও ক্ষমতা বণ্টন নিয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক সমালোচনামূলক বক্তব্য সেই দূরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপি সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নীতির সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, মাত্র দুই মাসেই এই সরকার চরম অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছে। এই সমালোচনার মুখে মে দিবসের সমাবেশটি বিএনপির জন্য নিজেদের জনসমর্থন প্রমাণের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, একটি ‘বিশেষ পক্ষ’ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তা নষ্ট করতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে।
দলীয় প্রেস রিলিজ: বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, নয়াপল্টন (২৫ এপ্রিল ২০২৬)।
সংবাদ সম্মেলন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য (লাইভ কভারেজ ও ট্রান্সক্রিপ্ট)।
রাজনৈতিক রেকর্ড: ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন।
বিগত সংবাদ: জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিবৃতি।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): ১ মে-র সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সরকার বিরোধীদের কঠোর সমালোচনাকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না। নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির যৌথ চাপের মুখে বিএনপি এখন শ্রমিক ও সাধারণ জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |