| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পকে যুদ্ধের ফাঁদে ফেলেছেন নেতানিয়াহু: জন কেরি ও জেডি ভ্যান্সের তথ্য ফাঁস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-04-2026 ইং
  • 4280 বার পঠিত
ট্রাম্পকে যুদ্ধের ফাঁদে ফেলেছেন নেতানিয়াহু: জন কেরি ও জেডি ভ্যান্সের তথ্য ফাঁস
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্পকে যুদ্ধের ফাঁদে ফেলেছেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহুর ‘মিথ্যা’ আশ্বাসে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ: জন কেরি ও জেডি ভ্যান্সের বিস্ফোরক তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্ররোচিত করার চেষ্টা করে আসছেন।

১. ওবামা, বুশ ও বাইডেন সবাই ‘না’ বলেছিলেন: কেরি

জনপ্রিয় টকশো ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’-এ আলাপকালে জন কেরি বলেন, “ওবামা না বলেছিলেন। বুশ না বলেছিলেন। এমনকি প্রেসিডেন্ট বাইডেনও নেতানিয়াহুর যুদ্ধের প্রস্তাবে না বলেছিলেন। আমি সেই সব আলোচনার অংশ ছিলাম।” সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধে রাজি হননি কারণ তারা ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ের সব পথ’ বন্ধ করতে চাননি।

কেরি ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বর্তমান প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, “মার্কিন জনগণের কাছে মিথ্যা বলবেন না এবং তাদের সন্তানদের ভুল উদ্দেশ্যে যুদ্ধে পাঠাবেন না। নেতানিয়াহু যা বলছেন তা কেবলই একটি অলীক ভবিষ্যৎবাণী।”

২. ট্রাম্পকে যেভাবে রাজি করালেন নেতানিয়াহু

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হন যে—ইরানে শাসন পরিবর্তনের (Regime Change) জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন যে, যৌথ অভিযান শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটবে। ট্রাম্প সেই ‘সহজ জয়ের’ ফাঁদে পা দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের সবুজ সংকেত দেন।

৩. জেডি ভ্যান্স বনাম নেতানিয়াহু: উত্তপ্ত ফোনালাপ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, গত মাসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ফোনে তীব্র বাদানুবাদ হয়। ভ্যান্স নেতানিয়াহুকে চেপে ধরেন যে, তিনি শাসন পরিবর্তনের বিষয়ে কতটা নিশ্চিত? সূত্রের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে নেতানিয়াহু বিষয়টিকে যতটা ‘সহজ’ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন, বর্তমানে রণক্ষেত্রের বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এই ‘অতিরিক্ত আশাবাদী’ বক্তব্যের জন্য নেতানিয়াহুকে কড়া কথা শুনিয়েছেন।

৪. বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জন কেরির এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে লিখেছে, নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা মানুষের জেগে ওঠার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা প্রকট হচ্ছে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): জন কেরির এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধ কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল। ভিয়েতনাম বা ইরাক যুদ্ধের মতো এবারও কি আমেরিকা একটি ‘ভুল তথ্যের’ ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে জড়িয়ে পড়ল? জেডি ভ্যান্সের মতো বাস্তববাদী নেতাদের সতর্কতা উপেক্ষা করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency