ডাম্বুলা, শ্রীলঙ্কা | ১৩ জুলাই ২০২৫
ডাম্বুলার রনগিরি স্টেডিয়ামে ছিল রোববারের মেজাজ—গ্যালারিজুড়ে উৎসব, ডিজের সাউন্ড, ট্রাম্পেট আর ড্রামের ছন্দে যেন চলছিল এক বিশাল পার্টি। কিন্তু সেই উৎসব মুহূর্তেই থমকে যায় শামীম হোসেনের এক দুর্দান্ত রান আউটে। মাঠে ঝড় তুলতে শুরু করে বাংলাদেশ।
শুধু সেই রান আউটই নয়—বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ এদিন ছিল চূড়ান্ত ফর্মে। ব্যাট হাতে অধিনায়ক লিটন দাসের ধৈর্যশীল ইনিংস, শামীম হোসেনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং আর বল হাতে শরিফুল-মোস্তাফিজ-রিশাদের শাসন—সব মিলিয়ে ৮৩ রানের বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা। সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুটা ছিল গ্যালারিমুখী। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার আগেই পুরো স্টেডিয়াম দর্শকে ভরে যায়। যারা টিকিট পায়নি, তারা গাছ বা কাঁটাতার পেরিয়ে ঢুকে পড়ে—এমনকি ভিআইপি গ্যালারির পাশ দিয়ে মাটি খুঁড়ে ঢোকার ঘটনাও দেখা গেছে!
এই উত্তাল গ্যালারিতে হঠাৎ নিস্তব্ধতা নামে ষষ্ঠ ওভারে, যখন কুশল মেন্ডিসকে চমৎকার থ্রোতে রান আউট করেন শামীম হোসেন। এরপরই লঙ্কান ইনিংসে নামে ছন্দপতন।
১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই বিপদে পড়ে। সাইফউদ্দিন তুলে নেন আসালঙ্কাকে, আর শরিফুল-মোস্তাফিজ ও রিশাদ ভাগাভাগি করে নেন বাকি উইকেটগুলো। ৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায় লঙ্কানরা।
শ্রীলঙ্কার মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন। ম্যাচ শেষে স্বয়ং লঙ্কান অধিনায়ক প্রশংসা করেন রিশাদ হোসেনের লেগস্পিনের এবং শামীম হোসেনের ফিল্ডিং দক্ষতার।
বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। দুই ওপেনার তানজিদ ও পারভেজ ফিরে যান দ্রুত। এরপর রানখরায় থাকা লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের ধীরগতির ইনিংসও সমালোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু সেই শঙ্কা দূর করেন লিটন-শামীম জুটি।
মাত্র ২১ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়ে দেয় লিটন ও শামীম। লিটন করেন ৫০ বলে ৭৬ রান (১ চার, ৫ ছক্কা)। শামীম থামেন মাত্র ২ রান দূরে ফিফটির, করেন ২৭ বলে ৪৮। তবে নিজের ইনিংসের চেয়ে দলের জয়েই তিনি বেশি খুশি, ম্যাচ শেষে বলেন,
“দল জিতেছে, তাতেই খুশি আমি। শেষ ম্যাচটা জিতেই সিরিজ নিতে চাই।”
দুই দিনের টিকিট হাহাকারের পরও ম্যাচের আগেই গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ। তবে সেদিনের আলোচনার বিষয় ছিল—ভিআইপি স্ট্যান্ডের কাঁটাতারের নিচ দিয়ে মাটি সরিয়ে অন্তত ১০০ টিকিটহীন দর্শকের ঢুকে পড়া! তারা নির্বিঘ্নে গ্যালারির উল্লাসে মেতে ওঠে।
এমন দৃশ্যের মাঝে বাংলাদেশ দলের জয়ের হাসি যেন পুরো স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে। পুরস্কার বিতরণীর পরও গ্যালারিতে রয়ে যান অনেক দর্শক। কয়েকজন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সেলফি তুলতে এসে বলেন, “ওয়েল প্লেইড বাংলাদেশ!”
বাংলাদেশ: ১৭৭/৭ (২০ ওভারে)
লিটন দাস ৭৬ (৫০ বল)
শামীম হোসেন ৪৮ (২৭ বল)
শানাকা ২/২৫ (৪ ওভার)
শ্রীলঙ্কা: ৯৪ অলআউট (১৬.২ ওভারে)
নিশাঙ্কা ৩১
শরিফুল ৩/১৭, রিশাদ ২/১৮
ফল: বাংলাদেশ ৮৩ রানে জয়ী
সিরিজ: ১–১ সমতা
পরবর্তী ম্যাচ: ১৬ জুলাই, কলম্বো (সিরিজ নির্ধারণী)
শুরুতে গ্যালারির শব্দে ঢাকা পড়া ম্যাচ, এক ঝলক ফিল্ডিং আর লড়াকু ব্যাটিংয়ে পাল্টে গেল পুরো দৃশ্যপট। বাংলাদেশ শুধু একটি ম্যাচই জেতেনি, তাদের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসটাকেও ফিরিয়ে এনেছে। এখন টাইগারদের চোখ কলম্বোর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |