জাতীয় ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সড়কে ঝরেছে বহু তাজা প্রাণ। ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়ে ধুয়ে গেছে স্বজনহারাদের চোখের জলে। ঈদুল আজহার আগে-পরে মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন মানুষ। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে সড়কে ঝরেছে ২২টি প্রাণ।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'রোড সেফটি ফাউন্ডেশন'-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ও জাতীয় দৈনিকগুলোর দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সড়ক-মহাসড়কে মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির শিকার হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। ১৩ দিনে মোট দুর্ঘটনার মধ্যে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল ১৪১টি, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেক। আর এসব একক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪.১২ শতাংশ।
এছাড়া রাস্তা পারাপারসহ বিভিন্নভাবে গাড়ির চাপায় দেশের সড়কে মোট ৩৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা মুখোমুখি সংঘর্ষে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুধু সড়ক পথই নয়, পাশাপাশি নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী:
নৌ-পথ: এই ১৩ দিনে সারা দেশে মোট ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রেলপথ: দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই সময়ের দুর্ঘটনাগুলোতে সারা দেশে ছোট-বড় মোট ৫০৭টি যানবাহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের বিস্তারিত তালিকা নিম্নরূপ:
মোটরসাইকেল: ১৫৭টি
থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান): ৯৩টি
যাত্রীবাহী বাস: ৭৯টি
পণ্যবাহী ট্রাক: ৬১টি
পিকআপ ভ্যান: ২৪টি
স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র): ১৮টি
কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকার: ১১টি করে (মোট ২২টি)
প্যাডেল রিকশা ও বাইসাইকেল: ১২টি
ড্রাম ট্রাক: ৭টি
মাইক্রোবাস: ৫টি
ট্রলি: ৫টি
অ্যাম্বুলেন্স: ৪টি
লরি ও পাজেরো জিপ: ২টি করে (মোট ৪টি)
ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি: ১টি
গ্যাসবাহী লরি: ১টি
অজ্ঞাতনামা যানবাহন: ১৪টি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ সড়কের কারণেই প্রতিবছর উৎসবের দিনগুলোতে এই ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
আপনার মন্তব্য জানান:
ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও বেপরোয়া গতি কমানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন।
দেশের সড়ক-মহাসড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতি, আবহাওয়া, দুর্ঘটনা ও জাতীয় নিরাপত্তার সব ব্রেকিং নিউজ এবং বস্তুনিষ্ঠ আপডেট সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |