আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬
সূত্র: আলজাজিরা ও ইরনা (IRNA)
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তেহরানের বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনকে একটি জোরালো সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার নামে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে কৌশল যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেছে, তা কখনোই সফল হবে না।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকারের দীর্ঘদিনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড এবং নীতিগত অবস্থানের কারণে ইরানের সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মধ্যে এক গভীর ঐতিহাসিক অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “এই অবিশ্বাস দূর করা রাতারাতি সম্ভব নয় এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরে ইরানের কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’ (Touska) জব্দের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান জানান, ওয়াশিংটন থেকে আসা সিগন্যালগুলো মোটেও গঠনমূলক নয়। বরং তাদের এই পরস্পরবিরোধী আচরণ ইরানের কাছে একটি ‘তিতার বার্তা’ পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি এক্স-এ লেখেন:
“যুক্তরাষ্ট্র মূলত আলোচনার পরিবর্তে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে। তবে তাদের জেনে রাখা উচিত, ইরানিরা জবরদস্তি বা চাপের কাছে কখনো নতি স্বীকার করেনি এবং করবে না।”
এত তিক্ততার মাঝেও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যেকোনো ধরনের অর্থপূর্ণ সংলাপে বসার পূর্বশর্ত হলো পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। তিনি দাবি করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কোনো সমাধান চায়, তবে তাদের অবশ্যই আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো (বিশেষ করে পরমাণু চুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত) সম্মান করতে হবে এবং আধিপত্যবাদী আচরণ পরিহার করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধের আট সপ্তাহ চলছে। সম্প্রতি পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১৯ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া এখন শঙ্কার মুখে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে ফোনালাপেও মার্কিন এই আচরণকে ‘বুলিং’ বা গুণ্ডামি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘ইরান আলোচনায় আগ্রহী’ দাবির পাল্টা জবাব। যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যখন ৩,০০০-এর বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত, তখন পেজেশকিয়ান ‘জাতীয় মর্যাদা’ (National Honor) রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, মার্কিন অবরোধ বা সামরিক চাপ ইরানকে এখনই আলোচনার টেবিলে বসাতে পারছে না।
মূল ভিত্তি: প্রতিশ্রুতি রক্ষা (Honouring Commitments)।
মার্কিন কৌশল: জবরদস্তি ও আত্মসমর্পণ (Submission to Force)।
ইরানের অবস্থান: মর্যাদা ও বিচক্ষণতার সাথে সংকট মোকাবিলা।
সতর্কবার্তা: চাপের মুখে আলোচনা অসম্ভব।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |