লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার
সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ২:১৫
মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। নরওয়ে-ভিত্তিক ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ এবং প্যারিস-ভিত্তিক ‘টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি’-র যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ইরান অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছে। ১৯৮৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রেকর্ড।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ছিল ৯৭৫ জন। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৩৯-এ দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন নারীও রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভ এবং বর্তমানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ডকে একটি ‘দমন-পীড়নের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে টিকে থাকার জন্য সরকার আরও কঠোরভাবে এই পথ বেছে নিতে পারে।
১৯৮৯ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের পর এবারই প্রথম এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বিচার ব্যবস্থা এবং বর্তমান শাসন কাঠামো অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখতে এই চরম পন্থার প্রয়োগ বাড়িয়েছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: যখন ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরত্বের কারণে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন ইরানের এই অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত এই ইস্যুটিকে ইরানের ওপর আরও কঠোর অবরোধ আরোপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবে।
| সাল | মৃত্যুদণ্ড কার্যকর (জন) | প্রবৃদ্ধির হার |
| ২০২৪ | ৯৭৫ | - |
| ২০২৫ | ১,৬৩৯ | ৬৮% বৃদ্ধি |
| বিশেষ তথ্য | ৪৮ জন নারী অন্তর্ভুক্ত | ১৯৮৯-এর পর সর্বোচ্চ |
ইরান বারবার বলছে তারা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। তবে অভ্যন্তরীণ এই বিশাল সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজর কেড়েছে। শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা এবং এই মানবাধিকার রিপোর্ট—সব মিলিয়ে ইরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
আপনার মতামত: যুদ্ধাবস্থায় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কি যুক্তিযুক্ত? কমেন্টে আপনার ভাবনা জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |