| বঙ্গাব্দ

রাজপথে ১১ দলীয় জোট: গণভোটের রায় নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বিক্ষোভ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-04-2026 ইং
  • 1226206 বার পঠিত
রাজপথে ১১ দলীয় জোট: গণভোটের রায় নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বিক্ষোভ।
ছবির ক্যাপশন: রাজপথে ১১ দলীয় জোট

রাজপথে ১১ দলীয় জোট: ‘গণভোটের রায় বনাম সরকারের অবস্থান’—প্রথমবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন প্রশাসন

বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো রাজপথে বড় ধরনের বিরোধী কর্মসূচির মুখোমুখি হলো। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজনে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে’—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজপথে নিজেদের শক্তির জানান দিল সংসদের এই বিরোধী জোট।

১. ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায়: বিরোধের মূল কেন্দ্র

সমাবেশে আসা হাজারো নেতাকর্মীর প্রধান দাবি ছিল—সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

  • অভিযোগ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর বিএনপি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা বৈধ হলে, জনগণের ভোটে সংবিধান সংস্কার কেন অবৈধ হবে?” এই ‘দ্বিচারিতা’ সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

২. জামায়াতের কড়া বার্তা: ‘জাতিকে অপমান করেছে বিএনপি’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে সরকারের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

  • হুঁশিয়ারি: তিনি বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করার অর্থ হলো জাতিকে অপমান করা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার যদি জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করে, তবে রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে।

  • রাজনৈতিক গুরুত্ব: জামায়াতের এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ১১ দলীয় জোট একটি দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে।

৩. রাজপথের চিত্র: ঝটিকা মিছিল ও বিশাল জমায়েত

বিকেল সোয়া পাঁচটায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। এটি নতুন সরকারের অধীনে বিরোধীদের প্রথম কোনো সংঘবদ্ধ বড় জমায়েত, যা রাজধানীর ট্রাফিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলে।

৪. কেন এই উত্তেজনা?

২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণ একটি আমূল পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল।

  • বিশ্লেষণ: ১১ দলীয় জোট মনে করছে, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর যে পরিবর্তন গণভোটে সমর্থিত হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আইনি ও পদ্ধতিগত জটিলতার কথা বলা হচ্ছে। এই দূরত্বই এখন রাজপথের উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।


বিডিএস অ্যানালাইসিস: নতুন সরকারের জন্য এটি একটি ‘এসিড টেস্ট’। জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির এই জোটবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করে যে, সরকারবিরোধী জনমত দানা বাঁধছে। বিশেষ করে ‘জাতীয় নাগরিক শক্তি’ ও ‘বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ’-এর মতো তরুণ শক্তির অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। যদি সরকার দ্রুত এই ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনায় না বসে, তবে সামনের দিনগুলোতে ঢাকার রাজপথ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।


১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ: এক নজরে প্রধান পয়েন্টসমূহ

ফিচারের নামবিবরণ
সমাবেশের স্থানবায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট।
মূল আয়োজকজামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দল।
প্রধান অভিযোগগণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান।
মূল বক্তাহামিদুর রহমান আযাদ (জামায়াত) ও আখতার হোসেন (এনসিপি)।
হুঁশিয়ারিরাজপথ ও সংসদ—সবখানে প্রতিবাদের ঘোষণা।

তথ্যসূত্র (Sources):

১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৪ এপ্রিল ২০২৬-এর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

২. জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP): সদস্য সচিব আখতার হোসেনের প্রেস ব্রিফিং।

৩. বিডিএস পলিটিক্যাল আর্কাইভ: ২০২৬-এর নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক মেরুকরণ ও গণভোটের প্রভাব বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency