নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে প্রতিদিন বদলাচ্ছে সমীকরণ। চলতি মাসের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার পর এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন ও পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো এখন তাদের দীর্ঘদিনের 'নিরপেক্ষ' অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানকে দমনে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অংশীদার হওয়ার পথে হাঁটছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ অবধি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তেল এবং কৌশলগত আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন, ১৯৪৮-এ ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৯-এর ইরান বিপ্লব—প্রতিটি ঘটনাই এই অঞ্চলের দেশগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন মেরুকরণে বাধ্য করেছে।
২০২৪-২৫ সালের বৈশ্বিক অস্থিরতার পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো আর কেবল নীরব দর্শক থাকতে চাইছে না। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৬ সালে এসে রিয়াদ এবং আবুধাবি এখন নিজেদের 'কঠোর শক্তি' (Hard Power) প্রদর্শনের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মরিয়া।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি আরব পশ্চিম সৌদি আরবের তায়েফে অবস্থিত কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি আমেরিকানদের জন্য খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইরানি শাহেদ ড্রোন থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত। এছাড়া লোহিত সাগরের জেদ্দা বন্দরটি এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি প্রধান লজিস্টিক হাবে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়, তবে জেদ্দা এবং তায়েফ হবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর রসদ জোগানোর মূল কেন্দ্র। ইতোমধ্যে পূর্ব এশিয়া থেকে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য এই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
সৌদি আরব ও আরব আমিরাত: রিয়াদ এবং আবুধাবি এখন ইরানকে 'শাস্তি' দেওয়ার পক্ষে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ওমান ও কাতার: ওমান এই যুদ্ধকে 'আমেরিকার যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও ইরানের পাল্টা হামলায় দেশটির 'রাস লাফান' শোধনাগার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামতে অন্তত ৩-৫ বছর সময় লাগবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, এই যুদ্ধ ৯ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হলেও তারা পাশে থাকবে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রস্তাব করেছেন, আরব দেশগুলো যেন মরুভূমির মধ্য দিয়ে ইসরায়েল পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন তৈরি করে। তবে এই প্রস্তাব উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর ইসরায়েলি ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬ সালের এই সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধে জড়ানো মানে এমন একটি সংকটে পা দেওয়া যেখান থেকে পাওয়ার কিছু নেই। তবে সৌদি আরব মনে করছে, পাশে একটি কট্টরপন্থী ইরানকে রেখে তারা কখনো শান্তিতে থাকতে পারবে না।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা, যুগান্তর আর্কাইভ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ কেন্দ্র।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা প্রভাব ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমান ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে সৌদি আরবের এই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের অর্থ হলো—ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব কমিয়ে একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা। তবে ইরানের আইআরজিসি যেভাবে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে, তাতে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |