| বঙ্গাব্দ

রাজপথে ১১ দল: সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদের দাবিতে আজ বিক্ষোভ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-04-2026 ইং
  • 322410 বার পঠিত
রাজপথে ১১ দল: সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদের দাবিতে আজ বিক্ষোভ।
ছবির ক্যাপশন: রাজপথে ১১ দল

রাজপথে ১১ দল: জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকর না হলে ‘দীর্ঘমেয়াদী’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংবিধান সংশোধন নয়, বরং ‘সংস্কার’ এবং ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করার দাবিতে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বাদ আসর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। গত বৃহস্পতিবার গুলশানে এক বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমান সরকার যদি জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের ফল অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশ এক নতুন রাজনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হতে পারে।

১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট থেকে ২০২৬-এর ১১ দল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোটবদ্ধ আন্দোলনের ইতিহাস অত্যন্ত পুরনো।

  • বিবর্তনের ধারা: ১৯৫৪ সালের ২১ দফা কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে গঠিত যুক্তফ্রন্ট যেভাবে তৎকালীন মুসলিম লীগের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, ১১ দলীয় জোটের ‘জুলাই সনদ’ অনেকটা সেই ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। ২০২৪-২৫ সালের গণ-আন্দোলনের পর যে ‘জুলাই সনদ’ বা সংস্কারের প্রস্তাবনা উঠে এসেছিল, সেটিকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন করার সরকারি উদ্যোগকে জোটটি ‘ফ্যাসিবাদী পথের পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে দেখছে।

  • সংবিধান সংস্কার বনাম সংশোধন: ১৯৯৬ বা ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে হামিদুর রহমান আজাদ দাবি করেছেন, কেবল সংশোধন করলে তা আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটা হবে। পূর্ণাঙ্গ ‘সংস্কার’ বা নতুন করে সংবিধান লেখার যে গণদাবি রয়েছে, তা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

২. গণভোটের রায় ও ‘ফ্যাসিবাদী’ অভিযোগ

১১ দলীয় জোটের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো—সরকার গণভোটের ফলাফলকে অবজ্ঞা করছে।

  • বিশ্লেষণ: যখন একটি সরকার গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তখন সেটি বাস্তবায়ন করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু জোটের মতে, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই একতরফাভাবে সংসদ পরিচালনা করছে এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

  • সংসদীয় ব্যর্থতা: সংসদে সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ না থাকাকে জোটটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।

৩. ৭ এপ্রিল: আন্দোলনের নতুন রূপরেখা?

হামিদুর রহমান আজাদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজকের বিক্ষোভ সমাবেশের পর যদি সরকার কর্ণপাত না করে, তবে আগামী ৭ এপ্রিল তারা দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন।

  • প্রভাব: যখন দেশে স্বর্ণের দাম রেকর্ড আড়াই লাখ টাকা এবং খাদ্যমূল্য ২.৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন এই রাজনৈতিক অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হতে পারে। তবে জোটের দাবি, জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথই এখন একমাত্র ভরসা।

বিডিএস অ্যানালাইসিস: ১১ দলীয় জোটের এই মুভ মূলত ‘চাপ প্রয়োগের রাজনীতি’ (Pressure Politics)। তারা সরকারকে বোঝাতে চাইছে যে, রাজপথের শক্তিকে উপেক্ষা করে সংবিধানের কোনো মৌলিক পরিবর্তন টেকসই হবে না। ২০২৬-এর এই উত্তপ্ত আবহে জোনায়েদ সাকির পদত্যাগ কিংবা এনসিপি’র মতো নতুন দলের উত্থানের মাঝখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটটি নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইছে।


১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ কর্মসূচির মূল দাবি ও সময়সূচী (৪ এপ্রিল ২০২৬)

বিষয়ের ক্ষেত্রবিবরণ ও সময়
প্রধান দাবিজুলাই সনদ কার্যকর ও সংবিধান সংস্কার।
সময়৪ এপ্রিল, শনিবার (বাদ আসর)।
স্থানবায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট।
পরবর্তী আল্টিমেটাম৭ এপ্রিল, দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা।
সমন্বয়কহামিদুর রহমান আজাদ।

তথ্যসূত্র (Sources):

১. হামিদুর রহমান আজাদ: প্রেস ব্রিফিং (২ এপ্রিল ২০২৬, গুলশান)।

২. ১১ দলীয় জোট সচিবালয়: আন্দোলনের কর্মসূচি সংক্রান্ত দলীয় বিজ্ঞপ্তি।

৩. বিডিএস পলিটিক্যাল ডেস্ক: বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের আইনি প্রেক্ষাপট ২০২৬।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency