প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রংপুর ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্রে ‘জাতীয় পার্টির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটে গেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনেই শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে জাতীয় পার্টি। এই বিজয়ের মাধ্যমে রংপুর এখন নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিজয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, রংপুরের মানুষ স্বৈরাচারের দোসরদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। বিজয়ী হওয়ার পর আখতার হোসেন বলেন, “৫ আগস্ট যেমন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, ১২ ফেব্রুয়ারি রংপুরের জনগণ আবারও জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ তো নেই-ই, জাতীয় পার্টিও এখন রংপুরে ইতিহাস।”
উল্লেখ্য, রংপুরের বাকি পাঁচটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয় লাভ করেছেন। এই আসনে নির্বাচনকালীন ‘হ্যাঁ-না’ গণভোটেও সংস্কারের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন মিলেছে।
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াই কেবল নির্বাচনের অংক নয়, এটি দীর্ঘ সংগ্রামের এক মহাকাব্য।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে তা রদ করার মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডের মানুষের নিজস্ব রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা দানা বাঁধে। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে পাকিস্তান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, বাঙালির অধিকার বঞ্চিত হওয়ায় তা ফিকে হয়ে যায়।
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের লড়াই (১৯৫২-১৯৭১): ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। এরপর ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।
স্বৈরাচার পতন ও ২০২৪-এর বিপ্লব: ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটায়।
সংস্কার ও ২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৫ সাল জুড়ে চলা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি ছিল প্রকৃত অর্থেই জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মহাউৎসব।
নির্বাচন পরবর্তী এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজনীতি মানুষের জন্য হলে, পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে নির্বাচন হয় না; মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, সেটাকেই সম্মান জানাতে হবে।” জামায়াত নেতা আরও যোগ করেন যে, তারা অকল্যাণকর কাজে বিরোধিতা এবং ভালো কাজে সহযোগিতার নীতিতে অটল থাকবেন।
অন্যদিকে, এনসিপি নেতা আখতার হোসেন নির্বাচনে কিছু জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, “কারচুপি ও রক্তপাতের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের পর্যালোচনা চলছে। দ্রুতই জোটগতভাবে আমরা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ মনে করেন, রংপুরের এই ফলাফল প্রমাণ করে যে সাধারণ ভোটাররা এখন উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন এবং নারী প্রার্থী ছিলেন ৮০ জন।
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
| মোট রাজনৈতিক দল | ৫১টি |
| মোট প্রার্থী | ২,০২৯ জন |
| বরাদ্দকৃত প্রতীক | ১১৯টি |
| নির্বাচনের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| রংপুর-৪ ফলাফল | আখতার হোসেন (এনসিপি) বিজয়ী |
সূত্র: রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, যুগান্তর ডিজিটাল ডেস্ক, বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউজ আর্কাইভ, বাসস (BSS), আল জাজিরা এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক গেজেট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |