জ্বালানি নিরাপত্তায় ‘বিকল্প’ পথ: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ডিজেল ও গ্যাসের ৪ জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরে
বিশেষ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এনার্জি এনালিস্ট)
চট্টগ্রাম, ৪ এপ্রিল ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির মুখে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল, এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) নিয়ে আরও ৪টি বিশাল জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার বিকেলে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘এমটি ইউয়ান জিং হে’ ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ডলফিন জেটিতে নোঙর করার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরেছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ তেল সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেক দেশের অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়েছিল।
বিবর্তনের ধারা: তখন বাংলাদেশ ছিল এক সদ্য স্বাধীন দেশ, যার জ্বালানি নির্ভরতা ছিল পুরোপুরি আমদানির ওপর। আজ ২০২৬ সালে এসেও মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের সংঘাতের ছায়া দেখা যাচ্ছে।
২০২৬-এর কৌশল: ১৯৭৩ সালের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির যে কৌশল নিয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি মূলত ‘জ্বালানি কূটনীতি’র এক নতুন বিজয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো নবম জাহাজ। বন্দর সচিব সৈয়দ রফায়েত হামিম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা ঝান’ বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
বিশ্লেষণ: যখন হরমুজ প্রণালি বা লোহিত সাগরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণা কিংবা ইরানের সামরিক মহড়ার কারণে বিশ্ববাজার অস্থির, তখন বঙ্গোপসাগর হয়ে আসা এই জাহাজগুলো বাংলাদেশের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।
বিকল্প বাজার: সরকার এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের (সৌদি আরব বা কাতার) ওপর নির্ভর না করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে জ্বালানি আনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
ডলফিন জেটিতে ডিজেল খালাসের পাশাপাশি বহির্নোঙরে পৌঁছেছে এলপিজি ও এলএনজি ভর্তি দুটি বড় জাহাজ।
প্রভাব: বাংলাদেশের বর্তমান শিল্প কারখানা এবং গৃহস্থালি রান্নার বড় অংশই এখন আমদানিকৃত এলপিজি ও এলএনজি’র ওপর নির্ভরশীল। এই জাহাজগুলো সময়মতো না পৌঁছালে রমজান পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার চরম ঝুঁকি ছিল।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এই আগমন কেবল একটি ব্যবসায়িক লেনদেন নয়, এটি রাষ্ট্রের ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি’। যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং স্বর্ণের দাম রেকর্ড আড়াই লাখ টাকা স্পর্শ করেছে, তখন এই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল ‘এনার্জি লজিস্টিক’ অপারেশন।
| জাহাজের নাম | পণ্য | পরিমাণ (টন) | উৎস দেশ | বর্তমান অবস্থা |
| এমটি ইউয়ান জিং হে | ডিজেল | ২৭,৩০০ টন | সিঙ্গাপুর | ডলফিন জেটিতে নোঙরকৃত। |
| শান গ্যাং ফা ঝান | ডিজেল | ৩৪,০০০ টন | মালয়েশিয়া | বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষমাণ। |
| অপ্রকাশিত (২টি জাহাজ) | এলপিজি ও এলএনজি | বিপুল পরিমাণ | মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে | বহির্নোঙরে অবস্থানরত। |
১. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC): সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মোমিতার প্রেস ব্রিফিং।
২. চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA): সচিব সৈয়দ রফায়েত হামিমের দাপ্তরিক তথ্য।
৩. Al Jazeera & Reuters: Middle East conflict impact on global fuel supply chains 2026.
৪. Energy & Mineral Resources Division (EMRD): Alternative fuel sourcing strategy report.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |