বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরকারি সুত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের শক্তিশালী একটি বাফার স্টক রয়েছে:
পরিশোধিত তেল: ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন।
অপরিশোধিত তেল (ইস্টার্ন রিফাইনারি): প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন।
সক্ষমতা: নতুন কোনো সরবরাহ ছাড়াও এই মজুত দিয়ে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনায়াসেই পূরণ করা সম্ভব।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার স্পট মার্কেট থেকে তেল কিনে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখছে। নিয়মিত বিরতিতে তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছাচ্ছে, তাই কৃত্রিম সংকটের কোনো অবকাশ নেই।
১৯০০-এর দশকে তথ্য পৌঁছাতে দেরি হতো বলে বিভ্রান্তি ছড়াত কম। কিন্তু ২০২৬ সালের এই 'ইনস্ট্যান্ট' যুগে একটি ছোট গুজবও বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ঈদের এই সময়ে কিছু অসাধু চক্র ব্যক্তিগত লাভের জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। গুগলের সাম্প্রতিক ডেটা এবং সোশ্যাল এনালিসিস বলছে, মানুষ এখন সংবাদের শিরোনাম দেখে দ্রুত আতঙ্কিত হয়। কিন্তু আমাদের উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর আস্থা রাখা।
গুজবে কান না দেওয়া: ভেরিফাইড সোর্স ছাড়া কোনো তথ্যে বিশ্বাস করবেন না।
অতিরিক্ত মজুত বর্জন: প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করবেন না।
দায়িত্বশীল আচরণ: আপনি নিজে সচেতন হন এবং অন্যকেও আতঙ্কিত হওয়া থেকে বিরত রাখুন।
উপসংহার: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের এই যাত্রায় আমরা বিভ্রান্ত না হয়ে বরং সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াই। সুন্দর ও স্থিতিশীল হোক আমাদের সবার আগামীর পথচলা।
সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) - ২৩ মার্চ ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |