বৈশ্বিক যুদ্ধ মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠন করল সরকার
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ ২০২৬ সালের ১১ মার্চ (বুধবার)। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে অস্থিরতার জেরে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গত সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আজ থেকে এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ ও নীতি নির্ধারণী কাজ শুরু করেছে।
১. লক্ষ্যমাত্রা: অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইন সচল রাখা এই উচ্চপর্যায়ের কমিটির মূল লক্ষ্যগুলো হলো:
জ্বালানি নিরাপত্তা: যুদ্ধের কারণে তেলের বিশ্ববাজার অস্থির হওয়ায় দেশের জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপণ্যের আমদানি ব্যয় যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যে অগ্রিম বাজার ব্যবস্থাপনা ও শুল্ক নীতি প্রণয়ন।
রেমিট্যান্স সুরক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখার জন্য বিশেষ কৌশল গ্রহণ।
২. কমিটির গঠন ও নেতৃত্ব অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-কে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী।
বাণিজ্য মন্ত্রী।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী।
খাদ্য মন্ত্রী।
৩. বর্তমান সংকট ও প্রেক্ষাপট লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি খরচ ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে দেরি হওয়ায় তৈরি পোশাক খাতের লিগ্যাসি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কমিটি প্রতি সপ্তাহে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের সংকট ইতিমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে। এই ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ গঠন সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। যদি লোহিত সাগরের রুট দীর্ঘকাল বন্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে খুব দ্রুত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিকল্প বাজারগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন (৯ মার্চ ২০২৬), অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিডিনিউজ২৪। বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনীতির আপডেট জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন:বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |