বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সরকারের বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যা তৃণমূলের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকার সারা দেশে যে ১৪টি উপজেলাকে এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনেছে, ঠাকুরগাঁও সদর তার মধ্যে অন্যতম। এই কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ডিজিটাল সিলেকশন প্রসেস:
প্রাথমিক জরিপ: প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ১,০৩৫ জন নারীর প্রাথমিক তালিকা করা হয়।
স্বয়ংক্রিয় সিলেকশন: মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে পারিবারিক আয় ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে অটোমেটেড স্কোরের ভিত্তিতে ৫৯০ জন নারীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কার্ড হাতে পাওয়া মারজিনা বেগম বা রাজিয়া সুলতানার মতো নারীদের আবেগঘন বক্তব্য প্রমাণ করে যে, এই কার্ড কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ড নয়, বরং এটি তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।
সংসারের ভার লাঘব: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই ভাতার টাকা চাল-ডাল কেনার দুশ্চিন্তা কমাবে।
শিক্ষা ও পুষ্টি: বর্গাচাষী পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে এই অর্থ সরাসরি ভূমিকা রাখবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডা. আব্দুস সালাম এবং জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার উপস্থিতি একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে, বর্তমান সরকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম, যা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পথে একটি বড় ধাপ।
২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিটি কেবল একটি ত্রাণ কার্যক্রম নয়, এটি একটি ডেটা-ড্রিভেন সোশ্যাল সেফটি নেট। যদি রহিমানপুর ইউনিয়নের মতো সারা দেশে এই স্বচ্ছতা বজায় রেখে কার্ড বিতরণ করা হয়, তবে প্রকৃত দরিদ্ররা তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে। তবে চ্যালেঞ্জ হলো—সার্ভার ও অ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচিত এই তালিকার সঠিক তদারকি এবং নিয়মিত ভাতা পৌঁছানো নিশ্চিত করা। ঠাকুরগাঁও থেকে শুরু হওয়া এই ডিজিটাল মডেলটি সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।
তথ্যসূত্র: ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় (১০ মার্চ ২০২৬), এলজিআরডি মন্ত্রণালয় প্রেস রিলিজ ও পালস বাংলাদেশ সোশ্যাল রিসার্চ উইং।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |