প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঝিনাইদহ: বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে নানা আইন ও বিধিবিধান প্রচলিত ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এক ঐতিহাসিক ও কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুর্নীতির দায়ে কেবল ‘শোকজ’ বা ‘চাকরিচ্যুতি’ নয়, বরং সরাসরি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে কর্মকর্তাদের।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে অনেক আইনি ঢাল তৈরি করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রধান দাবি ছিল—প্রশাসনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতির অবসান। ২০২৬ সালের এই নতুন সংসদীয় মেয়াদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের এই ঘোষণা মূলত ১৯০০ সালের সেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি ‘জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক’ প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে যুগান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এক বড় তথ্য জানান। তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে যতগুলো অধ্যাদেশ হয়েছে, প্রত্যেকটা অধ্যাদেশই আমরা বিল আকারে পেশ করবো। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে"। এটি ২০২৬ সালের সংসদের জন্য একটি বিশাল আইনি কর্মযজ্ঞ হতে যাচ্ছে।
আইনমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুটিকয়েক দুষ্কৃতিকারীর জন্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক হানাহানির বিষয়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কঠোর হুঁশিয়ারি—"অপরাধীদের যদি কেউ শেল্টার দেয়, তবে তাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে"।
নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, সরকার আইনসংগতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর। আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি পুনব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি আলী আজম মোঃ আবু বক্কর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের এমপি মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি মোঃ আবু তালিব। এছাড়াও জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ আফজাল এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের বিচার ও সংসদীয় ব্যবস্থা অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালের সংসদ হবে অত্যন্ত কার্যকর এবং এখানে অতীতের তুলনায় সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাসের প্রক্রিয়াটি দেশের আইনি কাঠামোতে এক নতুন মাইলফলক যোগ করবে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, কালবেলা অনলাইন (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় মিডিয়া সেল এবং ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |