জাইমা রহমানের মানবিক উদ্যোগ: ১৯০০ থেকে ২০২৬; বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের পদধ্বনি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সময়ে রাজকীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এক নতুন সংস্কৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের গঠন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ—এই ১২৬ বছরে এ দেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য। তবে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ ও ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েছে এক সংস্কারমুখী বাংলাদেশ। যেখানে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই জনসম্পৃক্ততা ১৯০০ সালের অভিজাত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৬ সালের ‘জনগণের রাজনীতি’র প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পুরো মাস জুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের এক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজনের অংশ হিসেবেই শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাইমা রহমান স্বশরীরে উপস্থিত হন ভাসানটেকে।
সেখানে তিনি এতিম শিশুদের পাশে বসে তাদের কথা শোনেন এবং পড়াশোনা ও জীবন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের কুশল বিনিময় করেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় আয়োজিত মোনাজাতেও তিনি শরিক হন।
উপস্থিত স্থানীয়রা বলছেন, ১৯০০ সালের সামন্ততান্ত্রিক প্রথা থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৬ সালে এসে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে এভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে পাওয়াটা এক বড় পরিবর্তন। বিশেষ করে ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে জনসেবার এই মানসিকতা সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই উদ্যোগকে ‘মানবিক রাজনীতি’র উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক উচ্চশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়েছেন জাইমা রহমান। ২০২৫-২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তার এই কর্মকাণ্ড ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সেবা ও সমমর্মিতার। রাজনীতি এখন আর কেবল ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পৌঁছে গেছে কড়াইল বস্তির ঝুপড়ি ঘর থেকে ভাসানটেকের এতিমখানা পর্যন্ত।
সূত্র: বাসস, যুগান্তর অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকা প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক ভেরিফাইড পেজ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি জাইমা রহমানের মানবিক উদ্যোগকে কেবল একটি অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এটি আধুনিক ও জনমুখী রাজনীতির একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |