| বঙ্গাব্দ

ফুটবল মাঠ থেকে মন্ত্রিসভায় ভোলার দুই অধিনায়ক: হাফিজ ও আমিনুল হকের জয়যাত্রা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-02-2026 ইং
  • 3470295 বার পঠিত
ফুটবল মাঠ থেকে মন্ত্রিসভায় ভোলার দুই অধিনায়ক: হাফিজ ও আমিনুল হকের জয়যাত্রা
ছবির ক্যাপশন: হাফিজ ও আমিনুল হকের জয়যাত্রা

ফুটবল মাঠ থেকে মন্ত্রিসভায়: ভোলার দুই গর্বিত সন্তানের নতুন জয়যাত্রা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা: বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন দ্বীপ জেলা ভোলার দুই কৃতি সন্তান। ফুটবল মাঠ কাঁপানো জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক এবার স্থান পেয়েছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায়। তারা হলেন—মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ও বীর বিক্রম খেতাবধারী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল হক। তাদের এই অর্জনে ভোলার দ্বীপ জনপদ এখন আনন্দের জোয়ারে ভাসছে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: সংগ্রামের জনপদ ভোলার রাজনৈতিক বিবর্তন

ভোলার রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও গৌরবময়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরবর্তী সময়ে ভোলা হয়ে ওঠে স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্কারী গোর্কি (ঘূর্ণিঝড়) এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তানি শাসকদের অবহেলা এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল।

১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ভোলার সন্তানদের সাহসী ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—প্রতিটি মোড়ে ভোলা তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বজায় রেখেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে এই জনপদের মানুষ আবারও প্রমাণ করেছে তারা পরিবর্তনের পক্ষে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গঠিত নতুন সরকারে ভোলার দুই সাবেক ফুটবল অধিনায়কের অন্তর্ভুক্তি যেন সেই দীর্ঘ সংগ্রামেরই এক মধুর স্বীকৃতি।

মেজর হাফিজ: রণাঙ্গনের বীর থেকে রাজপথের সেনানী

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি বাংলাদেশের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৪৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই বীর সেনা ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সিলেটের এমসি কলেজ, কামালপুর ও কানাইঘাটের যুদ্ধে তার বীরত্বগাঁথা ভূমিকার জন্য তিনি 'বীর বিক্রম' উপাধি লাভ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে তিনি সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে তিনি পাট ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সফল মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার তাকে দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্ব। ৮০ বছর বয়সেও তার এই জয়যাত্রা নতুন প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

আমিনুল হক: গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী থেকে মন্ত্রিসভায়

ভোলার দৌলতখানের সন্তান মোহাম্মদ আমিনুল হক বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণ করা আমিনুল ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন। দেশের জার্সি গায়ে ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই সাবেক অধিনায়ককে এবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল হক এ বছর ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও তার ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন। তার দাদা ও বাবার আদি ভিটা ভোলার দৌলতখানে হলেও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তারা ঢাকা পাড়ি দিয়েছিলেন। তবে শেকড়ের টানে আজও তিনি ভোলার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

ভোলার মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার

ভোলার ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন বলেন, "আমরা দুই গর্বিত সন্তানকে মন্ত্রিসভায় পেয়েছি। এটি ভোলার ক্রীড়া ও রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।" দৌলতখান পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম পলিনও আমিনুল হকের নিয়োগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ জাতীয় গেজেট ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আর্কাইভ। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের উপকূলীয় রাজনীতির ইতিহাস ও দলিলপত্র। ৪. স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকার।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন মন্ত্রিসভায় মেজর হাফিজ এবং আমিনুল হকের অন্তর্ভুক্তি একটি বিশেষ বার্তা বহন করে। একজন অভিজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা এবং অন্যজন আধুনিক ক্রীড়া জগতের প্রতিনিধি। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ শোষণের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তার পূর্ণতা মিলছে সুশাসন ও মেধার মূল্যায়নের মাধ্যমে। ভোলার এই দুই মন্ত্রীর হাত ধরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency