১৫ বছর পর সংসদ সচল: জামায়াতের শপথ ও মন্ত্রিসভায় ভিপি নুরের চমক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণে আবার সচল হলো জাতীয় সংসদ। একদিকে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় তরুণ নেতা নুরুল হক নুরের অন্তর্ভুক্তির খবর—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। সকাল থেকেই সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে জামায়াতের শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তবে সংসদ ভবনের ভেতরেই এক জরুরি বৈঠকের পর দলটি শপথে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতেই তারা এই শপথ নিয়েছেন।
আজকের দিনের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সামনে এসেছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার খবর। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলেই বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চ পরিষদের সদস্য আবু হানিফ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নুরকে শপথের জন্য ইতোমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতিকে হারিয়ে ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি তরুণ প্রজন্মের আইকন হিসেবে পরিচিতি পান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে যে স্বতন্ত্র পরিচয়ের লড়াই শুরু হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালে। কিন্তু গত ১৫ বছর দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র একপাক্ষিক হয়ে পড়েছিল।
২০১৪ ও ২০২৪: এই দুটি নির্বাচন বর্জনের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এবং আজকের এই শপথ গ্রহণকে বিশ্লেষকরা ‘গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম’ হিসেবে দেখছেন।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যে সংস্কারের ঢেউ শুরু হয়েছে, ভিপি নুরের মতো তরুণ নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি সেই পরিবর্তনেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
শপথ গ্রহণ উপলক্ষে আজ সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও গেজেট যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিপি নুরের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের সংসদে ফেরা এবং ভিপি নুরের মতো রাজপথের লড়াকু সৈনিকের সরকারে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ভারসাম্য তৈরি করবে। ১৫ বছর পর দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ পেল যেখানে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষই শক্তিশালী। এখন দেখার বিষয়, ২০২৬ সালের এই নতুন সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়।
সূত্র: বাসস, দৈনিক যুগান্তর অনলাইন, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও গণঅধিকার পরিষদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (বিডিএস)
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |