ভোটের মাঠে অভিজ্ঞতার জয়: ত্রয়োদশ সংসদে হেভিওয়েটদের দাপট, ছিটকে পড়লেন আলোচিত অনেকে
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল এক অম্লমধুর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। তবে অভিজ্ঞতার এই লড়াইয়ে হার মানতে হয়েছে অনেক আলোচিত মুখকে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের নিরঙ্কুশ জয়ের বিপরীতে বেশ কিছু আসনে পরাজয় হয়েছে বড় বড় নামের।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে দুটি আসন থেকে লড়েছেন এবং দুটিতেই বিশাল জয় পেয়েছেন। ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে তার বিজয় বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্য পরাজিত হননি। গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন:
বিএনপি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১১), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩) এবং লুৎফুজ্জামান বাবর (নেত্রকোনা-৪)।
জামায়াতে ইসলামী: দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতৃত্বের সংকেত দিয়েছেন। এছাড়া এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২) এবং মীর আহমাদ বিন কাসেম (ঢাকা-১৪) বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
তরুণ ও অন্যান্য: ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩), জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এবং এনসিপির তরুণ তুর্কি নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১) ও হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪) সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।
হেভিওয়েট হওয়া সত্ত্বেও ভোটারদের রায়ে ছিটকে পড়েছেন অনেকে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং আলোচিত আইনজীবী শিশির মনির এবার পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও জয়ের দেখা পাননি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ মাহমুদুর রহমান মান্না এবং এনসিপির সারজিস আলমও এই তালিকায় রয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালটি একটি পূর্ণবৃত্ত সম্পন্ন করেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ধাপেই এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে লড়েছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে অনেক বিশ্লেষক 'গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম' হিসেবে দেখছেন। ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের মতে, ২০২৬-এর এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং গ্রহণযোগ্য।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা খুব শীঘ্রই শপথ নেবেন। অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, এই সংসদ সদস্যরা কেবল আইনপ্রণেতা নন, বরং তারা জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের শপথ নেবেন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম সংসদে নারী ও তরুণদের এত বড় উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
সূত্র: নির্বাচন কমিশন (EC) গেজেট ২০২৬, ড. আলী রীয়াজের আলোচনা, ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিবেদন এবং যুগান্তর আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে বিজয়ীদের বীরত্বগাথা যেমন রয়েছে, তেমনি পরাজিতদের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে ভোটারদের নতুন মেরুকরণকে দায়ী করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন স্লোগান বা ইতিহাসের চেয়ে মাঠের কাজের মূল্যায়ন করছে বেশি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |