| বঙ্গাব্দ

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, নাহিদ-সার্জিসের উপস্থিতিতে হামলা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-07-2026 ইং
  • 12018 বার পঠিত
সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, নাহিদ-সার্জিসের উপস্থিতিতে হামলা
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ-সার্জিসের উপস্থিতিতে হামলা

মঞ্চে নাহিদ-আখতার-সার্জিস, হঠাৎ লোডশেডিংয়ের পরই সমাবেশস্থলে বোমা হামলা; সাভার মডেল থানায় এনসিপির মামলা

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬

ঢাকা জেলার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে এক ভয়াবহ হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ২ জন সংবাদকর্মী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক শহীদের বাবাসহ অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের ঠিক আগমুহূর্তে রহস্যজনকভাবে পুরো সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (লোডশেডিং) করে দেওয়া হয় এবং হামলার পরপরই আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসে। এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ দাবি করে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করেছে এনসিপি।

গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী (Second Anniversary) উপলক্ষ্যে এনসিপির ঢাকা জেলা শাখা এই ‘জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ’-এর আয়োজন করেছিল।

মঞ্চে ছিলেন শীর্ষ নেতারা, বক্তব্য চলাকালে বিস্ফোরণ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালীগঞ্জে অন্য একটি কর্মসূচি শেষ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান। এরপর স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বিশাল পদযাত্রা শেষে তাঁরা তারাপুর ঈদগাহ মাঠের সমাবেশস্থলে আসেন। নেতারা সভাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠেন এবং সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।

বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, দলটির সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য (এমপি) আখতার হোসেন এবং সংগঠনটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম। ঘটনার সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চের ঠিক সামনেই পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের একটি নির্ধারিত অবস্থান ছিল। সাংবাদিকদের ঠিক পেছনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা সাধারণ মানুষের বসার প্যান্ডেলে হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়। এর কিছুক্ষণ পরই আবার অলৌকিকভাবে বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

শহীদের বাবাসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ জন

এই বর্বরোচিত বোমা হামলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনরত দুই সাংবাদিকসহ মোট ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই এনসিপির নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সাভারের নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহতরা হলেন— শহীদ-পিতা মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও মামলা দায়ের

এই কাপুরুষোচিত বোমা হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রাতেই সাভার পৌর এলাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে নেতারা সেখান থেকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের জরুরি নির্দেশনা দেন।

সমাবেশের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাভারে এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত হামলা উল্লেখ করে দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং নেপথ্যের কুশীলবদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ একটি পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা। আমাদের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করেই হামলার ঠিক কয়েক মিনিট আগে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।”

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

এক নজরে সাভারের ককটেল হামলা (৭ জুলাই, ২০২৬)

  • ঘটনা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীর সমাবেশে ভয়াবহ ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণ

  • টার্গেট: মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, এমপি আখতার হোসেন ও সার্জিস আলম

  • কৌশল: নেতারা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, হামলার পর আবার বিদ্যুৎ আসে

  • আহত: ডিবিসি ও এনপিবি নিউজের ২ সাংবাদিক এবং শহীদ শ্রাবণের বাবাসহ মোট ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

  • আইনি পদক্ষেপ: সাভার মডেল থানায় এনসিপির বিস্ফোরক মামলা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

সাভার ব্যুরো | রাজনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মারক সেল

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মজনু ও শহীদ-পিতা মান্নান গাজীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা, সাভারে এই হামলার প্রতিবাদে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নেপথ্যে থাকা ডেসকো/পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা এবং সাভারের সব ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency