বকেয়া বেতনের দাবিতে পুলিশের ওপর হামলা: গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ, এক পুলিশ কনস্টেবল আহত
আজ (২৫ মার্চ) দুপুরে বকেয়া বেতন ও অন্যান্য অধিকার আদায়ের দাবিতে শ্রম অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করতে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। পল্টন মোড় থেকে শুরু হওয়া কয়েক শ গার্মেন্টস শ্রমিকের মিছিল তোপখানা রোডের শ্রম অধিদপ্তরের ভবন ঘেরাও করতে আসলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এনজেডএফ গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রম অধিদপ্তরের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। পুলিশের বাধার মুখে শ্রমিকরা অপ্রত্যাশিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের একটি বাস ভাঙচুর করে। এতে পুলিশ সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন, তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ছত্রভঙ্গ করতে একাধিক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর শ্রমিকরা একত্র হয়ে পুলিশকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, কিন্তু শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে অটল ছিলেন। শ্রমিকরা দাবি করছেন, তারা বেশ কয়েক মাস ধরে বকেয়া বেতন পাচ্ছেন না, যার কারণে তারা আজ এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলার ফলে একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আহত পুলিশ সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং শ্রমিকদের শান্ত করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রশাসন ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য শ্রমিক অধিকার আদায়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া বেতন না দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব তাদের বেতন পরিশোধ করা হোক, যাতে তারা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
এদিকে, শ্রম অধিদপ্তর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বিষয়টির ওপর মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পদক্ষেপ নিতে চায়। যদিও পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, পুলিশ এবং প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।
এটি বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন এবং তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি নতুন অধ্যায়, যেখানে শ্রমিকরা তাদের মৌলিক অধিকার দাবি করতে রাজপথে নামছে, এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিক নেতারা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |